পাচারের জব্দ সোনা গাজার পুনর্গঠনে দেবে কলম্বিয়া

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৬ এএম

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গাজার পুনর্গঠন ও আহত ফিলিস্তিনি শিশুদের চিকিৎসায় অভূতপূর্ব এক উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। তিনি মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা সোনা গাজার মানবিক সহায়তায় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এ উদ্যোগ হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি কলম্বিয়ার সমর্থনের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি ন্যাশনাল এজেন্সি ফর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে (এসএই) মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে জব্দ সোনা গাজার আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, কলম্বিয়া জাতিসংঘে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে, যাতে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পুনর্গঠন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের প্রস্তাব থাকবে।

কলম্বিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ন্যাশনাল এজেন্সি ফর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (এসএই) জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা শুরু করেছে। এসএইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা সম্পদের মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা রয়েছে। এ সম্পদের একটি অংশ গাজার মানবিক সহায়তায় ব্যবহৃত হবে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠনে মোট খরচ ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে প্রথম তিন বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। গাজায় যুদ্ধের ফলে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজায় কমপক্ষে ১২ হাজার শিশু আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশের জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ২০২৪ সালে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং গাজায় পুনর্গঠন প্রকল্প শুরুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার উদ্যোগ এ চুক্তির প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সোচ্চার। তিনি ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন এবং ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে কলম্বিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে তিনি ফিলিস্তিনি ইস্যুতে সবচেয়ে সক্রিয় নেতাদের একজন। পেত্রো জাতিসংঘের মাধ্যমে গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠনের জন্য জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

কলম্বিয়ার এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে, তবে এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জব্দ সম্পদের আইনি জটিলতা, গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর লজিস্টিক বাধা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এ উদ্যোগের সফলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কলম্বিয়ার এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকটে নতুন সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত