আন্দোলনের নবম দিন

আজ মুখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষকদের মিছিল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫২ এএম

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আজ মঙ্গলবার তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করবেন। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ-প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

এদিকে আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপি ও সিপিবি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

গতকাল কর্মসূচি ঘোষণা করে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘আমরা আজ থেকে আমরণ অনশনে গিয়েছি। ইতিমধ্যে চারজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই আন্দোলনে কোনো প্রাণহানি ঘটলে তার দায় শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরারকে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবরারের কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। তাকে আমাদের দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে, নয়তো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়তে হবে।’

অধ্যক্ষ আজিজী জানান, যারা শহীদ মিনারে আসতে পারছেন না, তারা প্রতিদিন  বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষিত বাড়ি ভাড়া ভাতা ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেন। তারা বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন : আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত, গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একাত্মতা প্রকাশ করেছে। গতকাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মহাসমাবেশে বলেন, ‘৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা যথেষ্ট নয়। সরকারকে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা জাতীয়করণ করা হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) শিক্ষকদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল পুরানা পল্টন মোড়ে সংহতি সমাবেশ করেছে দলটি। সমাবেশে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘সরকার শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির প্রতি কর্ণপাত করছে না, বরং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশি নির্যাতন চালিয়েছে।’

সমাবেশ থেকে সিপিবি আগামী ২৩ অক্টোবর ‘শিক্ষক সংহতি দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো, মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা।

এর মধ্যে সরকারের ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষকরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত