রিজওয়ান কি হিট উইকেট আউট? শরফুদ্দৌলা বললেন, 'ডেড বল'

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

ক্রিকেটে অনেক আজব ঘটনা দেখা যায়, কিন্তু বুধবার রাওয়ালপিন্ডিতে যা ঘটল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান, দিনের শেষ বল খেলার এমন কান্ড করলেন, যা সাধারণত গ্রামের মাঠে দেখা যায়—আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়।

কেশব মহারাজের অফ স্টাম্পের উপর হালকা টস আপ করা শেষ ডেলিভারি রিজওয়ান কভারে ঠেলে দেন। প্রোটিয়া ফিল্ডাররা দৌড়ে যায় বলের পেছনে। এরপর যা ঘটল, তাতে সবাই হতভম্ব। দেখা গেল, রিজওয়ান নিজের ব্যাট দিয়ে স্টাম্পের বেলস ফেলে নিজেই ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন!

উইকেটকিপার ভেরাইন সঙ্গে সঙ্গে ‘হিট উইকেট’-এর আবেদন করেন। আম্পায়ার শারফুদ্দৌলার সঙ্গে তার বেশ তর্কও হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়—রিজওয়ান বল মারার কিছুক্ষণ পর ব্যাট দিয়ে বেলস ফেলে দেন, কিন্তু তখনও ফিল্ডার বলটা উইকেটকিপারের কাছে ফেরায়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সেটি ‘ডেড বল’ ধরা হয়। আম্পায়ার শারফুদ্দৌলা সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা দেন—“বলটি ডেড”, এবং একই সঙ্গে বলেন, “ওভার শেষ।” এর মানে, রিজওয়ান ‘আউট’ নন। 

দিন শেষের এই ঘটনা নিয়ে দর্শক ও ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে মৃদু হাসাহাসি শুরু হয়। কেন রিজওয়ান এমন করলেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন। হয়তো ভেবেছিলেন দিন শেষ হয়ে গেছে, তাই অবচেতনে স্টাম্পে আঘাত করেছেন—অথবা, হয়তো স্রেফ ভুলে গিয়েছিলেন যে বলটি তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডেড’ ঘোষণা হয়নি। একজন ধারাভাষ্যকার মজা করে বললেন, “রিজওয়ান নিজেই নিজের উইকেটকিপার হয়ে গেলেন!”

তবে তৃতীয় দিনটা ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ আফ্রিকার। সকালে পাকিস্তানের অভিষিক্ত আফ্রিদি দুর্দান্ত বোলিংয়ে (ডেবিউতে ৫ উইকেট) আফ্রিকানদের নড়বড়ে করে দেন। কিন্তু নিচের সারিতে মুথুসামি, মহারাজ ও রাবাদার প্রতিরোধ সব পাল্টে দেয়। মুথুসামি–মহারাজের নবম উইকেটে ৭১ রানের জুটি, তারপর রাবাদার সঙ্গে ৯৮ রানের দারুণ পার্টনারশিপ—শেষ দুই উইকেটে ১৬৯ রান যোগ করে দক্ষিণ আফ্রিকা নেয় ৭১ রানের লিড। রাবাদার ৬১ বলে ঝোড়ো ৭১ রান ছিল দিনটির সেরা।

রাবাদা পরে বল হাতে আব্দুল্লাহ শফিককে আউট করে বড় ধাক্কা দেন পাকিস্তানকে। অন্য প্রান্তে স্পিনার সায়মন হারমার ৬০ রানের মধ্যে তুলে নেন আরো তিন উইকেট। সেখান থেকে বাবর আর রিজওয়ান জুটি বেধে দলকে নিয়ে গেছেন ৯৪ রানে। 

২৩ রানে এগিয়ে থাকা পাকিস্তান চতুর্থ দিন কতোটা এগোতে পারে সেটাই দেখার। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত