সিইসি-বিএনপি বৈঠক

বিতর্কিত কর্তাদের নির্বাচনে যুক্ত না করার পরামর্শ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৫ এএম

সরকার ও প্রশাসনে থাকা বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তারা যাতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না হতে পারে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সতর্ক করেছে বিএনপি। দলটি মনে করে প্রশাসনের কেউ রাজনৈতিকভাবে মোটিভেটেড হলে সেটা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে  সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এসব কথা বলেন। বৈঠকে, দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াও ছিলেন।

বিএনপি এ নেতা বলেন, বাংলাদেশে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করতে অন্তত ১০ লাখ লোকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবল সীমিত। তহলে এই ১০ লাখ লোক কারা হবে? অতীতে আমরা দেখেছি, প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। এবার যেন এমন না হয়, সেটি আমরা জোর দিয়ে বলেছি।

আব্দুল মঈন খান বলেন, গত ১৫ বছরে প্রশাসনকে একটি রাজনৈতিক দলে অনুগতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে অতীতের তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা যে প্রহসনের শিকার হয়েছেন, তা সবারই জানা। এই বাস্তবতার মধ্যেও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে যুক্ত না হতে পারেন। কমিশন যেন এমন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেন, যেখানে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

 তিনি বলেন, অতীতের সব প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং তাদের মধ্যে যারা অতীতে চাপ বা ভয়ের কারণে অন্যায় করেছে, তাদের এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ অন্তরে গণতান্ত্রিক। যখন তারা বুঝবে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তখন এটি উৎসবমুখর একটি ঘটনার রূপ নেবে।

মঈন খান তিনি বলেন, আমরা আজ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ করেছি জাতীয় স্বার্থে–কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে নয়। আমাদের লক্ষ্য একটাই দেশের মানুষ যেন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের বিষয়ে কথা হয়েছে। সাংবাদিকরা যেন বিনা বাধায় কাজ করতে পারেন এবং সত্য তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেন। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরাও চাই, কমিশন এমন একটি নির্বাচনের আয়োজন করুক যাতে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিশ্ববাসীও বুঝতে পারে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

জোট রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  আমরা যে পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি – গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোয়ালিশন একটি স্বীকৃত পন্থা। এবং এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই প্রক্রিয়া চালু আছে। ২০০১ সালে আমরা প্রাক-নির্বাচনী কোয়ালিশন করেছিলাম, এবং সেটা জামায়াতের সঙ্গে হয়েছিল। আপনারা জানেন, আমাদের মন্ত্রিসভায় জামায়াত থেকে দুজন সদস্য ছিলেন। কাজেই এটা এমন কোনো আশ্চর্য বিষয় নয়। নির্বাচনে প্রাক-নির্বাচনী সমঝোতা হয়, কোয়ালিশন হয় আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন-পরবর্তী কোয়ালিশনও হয়ে থাকে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এখনো উন্মুক্ত রয়েছি। আমরা যথাসময়ে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, আমরা অনেকেই যে ভয়টা পাচ্ছি যে নির্বাচনের দিনে বিশৃঙ্খলা হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষতি হবে। আমি বিশ্বাস করি যে নির্বাচন একটি উৎসবমুখর একটা কর্মকাণ্ডে পরিণত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা যে আশঙ্কা করছি সে আশঙ্কা থাকবে না।

ইসির কাছে বিএনপি কয় দফা প্রস্তাব জমা দিয়েছে জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, ‘আমরা কোনো প্রস্তাব জমা দেয়নি।

ইসির সঙ্গে গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, সাধারণ নির্বাচন হবে সেই দিনেই আমরা রেফারেন্ডাম চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত