সালাহউদ্দিন বললেন

একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫৬ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘গতকাল একটি দল বলেছে, আমরা নাকি চাপে জুলাই সনদে গণভোটের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। আমরা বলেছি, জাতীয় নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হতে পারে। এখন একটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে। তবে তাদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে। আমরা আশা করছি, সুন্দর সমাধান হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) আয়োজিত ‘চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে পরিবর্তন আশা করছি, তা সর্বত্রই হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন শুধু বৈষম্যমূলক চাকরির ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের জন্য নয়। সেটি ছিল ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ শাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। যে কারণে দ্রুতগতিতে এক দফার ভিত্তিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয় এবং বহু লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী আইনি রূপান্তর ঘটাতে পারলে জাতির মুক্তি হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে।’

স্বাগত বক্তব্যে ইউট্যাবের মহাসচিব ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘আমাদের দল বিএনপি মনে করে একটি জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু শিক্ষাকে হতে হবে কর্মসংস্থানমুখী ও যুগোপযোগী। গত কয়েক দশকে আমরা দেখেছি সার্টিফিকেটসর্বস্ব একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা শুধু বেকারত্বের সংখ্যা বাড়িয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে তরুণদের ভাবনা হওয়া উচিত একটি জ্ঞান ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে, যেখানে কারিগরি, ভোকেশনাল এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুতরাং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অবস্থান বদনাম ঘোচাতে হবে। ১৭ বছরে শিক্ষার জঞ্জাল সরিয়ে শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে। কারিকুলাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’

ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান এ আসাদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভিসি-প্রো-ভিসি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত