আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম। নদীতে মাছ শিকারে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলেরা। দীর্ঘ বিরতি শেষে নদীতে নামতে মুখিয়ে আছে তারা। অভিযান সফল হওয়ায় ইলিশের প্রাচুর্যে ভরে উঠবে নদীগুলো এমনটাই প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।
গেল ৪ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। এসময় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাঁদপুরের জেলেরা। জাল সেলাই, নৌকা মেরামতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন মেঘনা নদীতে মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ সময়ে জেলেরা জীবিকা হারিয়ে পড়েছিলেন চরম কষ্টে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মুখে এখন আশার হাসি। তবে, নদীতে ইলিশের পরিমাণ ও দাম নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে তাদের মনে।
সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার জেলে আক্তার হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন আমরা নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত ছিলাম। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আমরা মাছ ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করি ভালো মাছ জালে উঠবে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন চাঁদপুরে ৪৫ হাজার ৬১৫ জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা মানায় নদীতে ইলিশের প্রজনন বেড়েছে। আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি।
জেলা প্রশাসক মো. মোহসীন উদ্দীন বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলায় অর্ধশতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসময় প্রায় ৬ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল ও প্রায় ১ টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।
