বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সামাজিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেবে।’ গতকাল শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় খন্দকার শামসুল আলম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা প্রস্তাবনা’ বিষয়ে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) যুগে প্রবেশ করেছে।
মেধাবীদের জন্য এখন বিশ্বের দরজা উন্মুক্ত। জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা এবং যোগ্যতার প্রতিযোগিতা চলছে সর্বত্র। তাই শিক্ষার্থীদের এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া জরুরি।’
মেধা মূল্যায়ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন ও তাদের প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে যে বিষয়ে ভালো তাদের সে বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা। যে হাদিসে ভালো তাকে বের করে নিয়ে আসা, যে কেরাতে ভালো তাকে বের করে নিয়ে আসা, যে খেলায় ভালো তাকে বের করে নিয়ে আসা, যে অঙ্কে ভালো তাকে বের করে নিয়ে আসা।’
তিনি বলেন, ‘এ রকম প্রতিভাগুলোকে ধীরে ধীরে বের করে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএনপি। পাশাপাশি সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য দলটির।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরাপদ রাষ্ট্র ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে বিএনপি ইতিমধ্যেই জনগণের সামনে ৩১ দফা ঘোষণা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এর অংশ হিসেবেই দেশের প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন করতে শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়েছে যারা এই কাজকে ইতিমধ্যে অনেক দূরে নিয়ে গেছে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা মাদ্রাসা বা স্কুল যেখানেই পড়াশোনা করো না কেন, মনে রাখতে হবে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আধুনিক ও ব্যবহারিক শিক্ষায় দক্ষ হতে হবে। জানে-বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে হবে, কারিগরি শিক্ষায়ও হতে হবে পারদর্শী।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজিয়ে তুলতে কাজ করছে। বর্তমান বিশ্বে নিজেকে অন্যের চেয়ে দক্ষ করে তোলার যে প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে একনিষ্ঠতা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির বিকল্প নেই।
তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেন, মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক পরিচর্যা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি। তিনি বলেন, ‘মেধা সহজাত হলেও এর বিকাশের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।’
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, পাকুন্দিয়া বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন প্রমুখ।
খন্দকার শামসুল আলম ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, পাকুন্দিয়া উপজেলার ৮৪টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার ২১১ জন শিক্ষার্থী চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ ১০ জনসহ মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়াও অংশগ্রহণকারী সবার জন্য সান্ত¡না পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন খন্দকার শামসুল আলম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আল আশরাফ মামুন।
