দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষা শেষে খুলনায় চালু হয়েছে নবনির্মিত জেলা কারাগার। শনিবার ১০০ কয়েদিকে গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করার মাধ্যমে নতুন এই কারাগার চালু করা হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে পুরাতন কারাগার থেকে কড়া পুলিশি প্রহরায় তিনটি প্রিজন ভ্যানে কয়েদিদের সিটি বাইপাস সড়কের নতুন কারাগারে নেওয়া হয়। পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগারের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার।
কয়েদিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন কারা উপ-মহাপরিদর্শক মনির আহমেদ, খুলনা কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান, জেলার মুনীর হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
কারাগার সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে বন্দীদের নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল গত ২৫ অক্টোবর। কিন্তু খুলনার নতুন জেলা কারাগারের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এ কার্যক্রম এক সপ্তাহ পিছিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, নতুন কারাগারটি নির্মিত হয়েছে আধুনিক সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য রয়েছে পৃথক ভবন। কিশোর-কিশোরীদের জন্য আলাদা ব্যারাক। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও ওয়ার্কশেড। বন্দিদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, পাশাপাশি কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য স্কুল, লাইব্রেরি, ডাইনিং, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি। শিশুসন্তানসহ নারী বন্দিদের জন্যও রয়েছে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার, যেখানে সাধারণ বন্দিদের প্রবেশাধিকার থাকবে না।
মাস্টারপ্লান অনুযায়ী, খুলনার নতুন কারাগারে মোট ৪ হাজার বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে। আপাতত নির্মিত অবকাঠামোয় ২ হাজার বন্দির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে আরো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রয়েছে।
