বিজেপি অফিসে হামলার জের

ভোলায় বিএনপির সদর উপজেলা কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ পিএম

ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির কমিটির সকল কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত করেছে। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

একই দিন দুপুরে ভোলা শহরে বিএনপি ও ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই কমিটি স্থগিতের এ ঘোষণা আসে।

রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভোলা জেলাধীন সদর উপজেলা বিএনপি'র কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও দলীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় বিজেপির একটি দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিজেপির প্রায় ২৫ জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও এক সাংবাদিকও রয়েছেন। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি, দোকান ও রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের নেতাকর্মীরাও আহত হয়েছেন।

ভোলা বিজেপির প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি পক্ষ আমাদের কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ সভায় বিএনপির লোক এসে ভাঙচুর করেছেন। এর বিচার চাই আমরা। বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এই ধরনের সংঘাত জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মান ক্ষুন্ন করছে এবং ভোট রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দাবি, সংঘর্ষের মূল কারণ ভোলা-১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব। এই আসন থেকে বিজেপির চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আন্দালিভ রহমান পার্থ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক (সাবেক সভাপতি) গোলাম নবী আলমগীরও একই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি।

দলীয় সূত্রমতে, নিজের প্রভাব ধরে রাখতে গোলাম নবী আলমগীরের অনুসারীরা সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিচ্ছেন। ভোলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রও দাবি করে, আলমগীর ও তার ভাতিজা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আসিফ আলতাফের বিরুদ্ধে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসন বিরক্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত