খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০২ পিএম

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত করে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দুইটি পরিষদ।

আজ রবিবার বিকালে খুলনা প্রেস ক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল মনোনিত অ্যাডভোকেট মো. আবুল খায়ের ও অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম পরিষদ এবং স্বতন্ত্র আইনজীবী পরিষদ মনোনীত অ্যাডভোকেট বেগম আক্তারজাহান রুকু ও নিহিত কান্তি ঘোষ পরিষদ এ দাবি জানায়।

তারা আরও জানান, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে নির্বাচনের দাবি মেনে না নেওয়া হলে সাধারণ সভার জন্য আইনজীবীদের গণসাক্ষর নেওয়া হবে। সেই সভায় নির্বাচনের অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র আইনজীবী পরিষদের সভাপিত অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির মেয়াদ ছিল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু অ্যাডহক কমিটির সাধারণ আইনজীবীদের বক্তব্য না শুনে তালবাহানার একটি সাধারণ সভা দিয়ে কমিটির মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়। তাদের এই সিদ্ধান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা মেনে নিয়েছিলাম। তবে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, অ্যাডহক কমিটি স্বেচ্ছায় নির্বাচন দিয়ে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করতে সহায়তা করবেন, কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হলেও অ্যাডহক কমিটি তা না করে লোক দেখানো নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী গত ৩০ অক্টোবর স্বতন্ত্র আইনজীবী পরিষদ মনোনীত আইনজীবীগণ মনোনয়ন পত্র কিনতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে বার বার ধর্ণা দেয়। কিন্তু রবিবার পর্যন্তও মনোনয়নপত্র পাওয়া যায়নি। উল্টা রবিবার দুপুর ২টায় স্বৈরাচার ও নয়া ফ্যাসিস্ট অ্যাডহক কমিটি সাধারণ সভা ডেকে সাধারণ আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য না শুনে নিজেদের ইচ্ছামতো নির্বাচন স্থগিত করে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ বর্ধিত করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং আগামী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

অপরদিকে, পৃথক সংবাদ সম্মেলনেন অনুরূপ দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল মনোনিত মো. আবুল খায়ের ও অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না বলেন, ২০২৫ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার পরে নমিনেশন বিক্রির শেষ দিন কথিত সাধারণ সভার নামে অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন স্থগিত করেন। যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। সংবাদ সম্মেলনে নির্ধারিত তফসিল অনুসারে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে নির্বাচনের দাবি মেনে না নেওয়া হলে সাধারণ সভার জন্য আইনজীবীদের গণসাক্ষর নেওয়া হবে। সেই সভায় নির্বাচনের অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শেখ নূরুল হাসান রুবা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩০ অক্টোবর  খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ১৬ বিধি অনুযায়ী ৯৪ জন আইনজীবীর এক দরখাস্তের মাধ্যমে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ  পর্যন্ত স্থগিত করার আবেদন করেন। তাদের আবেদনে আইনজীবী সমিতির গত ৫ বছর যাবত অর্থ আত্মসাৎকারী মো. সাইফুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত ফৌজদারী/সিভিল মামলায় বিচার দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিতের কারন উল্লেখ করেন।

সমিতির গঠনতন্ত্রের বিধান মতে আবেদনের ভিত্তিতে রবিবার দুপুর ২টায় সমিতির ১ নম্বর হল রুমে এক বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত  এবং বর্তমান অ্যাডহক কমিটি তাদের দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত