কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে পরনির্ভরশীলতা, চাকরি কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থান বিকল্প হিসেবে কর্মমুখী শিক্ষা, আত্মকর্মসংস্থান এবং স্বাবলম্বীতাই হতে পারে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের চাবিকাঠি। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে টেকাব-২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪০ জন তরুণ-তরুণীরা এ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অফিস কিংবা কর্মশালা নয়, একটি ঝকঝকে এসি বাসে চলছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। উপজেলা পরিষদ চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাসে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা নিজেদের জীবনের গতি বাড়ানোর নতুন দিক খুঁজে পাচ্ছেন।
রবিবার (২ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২ মাসব্যাপী ‘কম্পিউটার এন্ড নেটওয়ার্কিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (যুব অনুবিভাগ) ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন।
উদ্বোধন শেষে উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা হাসানুর রহমান সজিবসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যুব প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণার্থী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপজলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এই বাসটি মূলত ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে ২ মাসব্যাপী ৪টি শিফটে মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী কম্পিউটার শেখার সুযোগ পাচ্ছেন।’
জানা গেছে, ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব)’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ। বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পেয়ে তারা নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করে বেকারত্ব দূর সুযোগ পাবেন।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বেকার শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে লটারির মাধ্যমে ২০ জন মেয়ে ও ২০ জন ছেলেকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা একটি সনদ পাবেন, যা ৬ মাসের ডিপ্লোমা কোর্সের সমমান।
এই সনদ ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে আবেদন করার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে অল্প সুদে ঋণও নিতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবসমাজের বেকার সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে তিনি আশা করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, গ্রামের দরিদ্র ও মেধাবী যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে মানসম্মত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়ন ঘটবে।
