'ব্যাটেল অব সেক্সেস' ফিরছে টেনিসে; দুবাইয়ে মুখোমুখি সাবালেংকা-কিরগিয়স

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম

২৮ ডিসেম্বর দুবাইয়ে হবে নারী-পুরুষের টেনিস। মুখোমুখি হবে বিশ্বের এক নম্বর নারী টেনিস খেলোয়াড় আরিনা সাবালেংকা ও অস্ট্রেলিয়ার তারকা টেনিস খেলোয়াড় নিক কিরগিয়স। এই ম্যাচ দিয়ে টেনিসে ফিরছে ব্যাটল অব সেক্সেস। 

এই ম্যাচটি অনেকটা ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ব্যাটেল অব সেক্সেস’-এর স্মৃতি জাগিয়ে দেয়, যেখানে বিলি জিন কিং স্ট্রেইট সেটে পরাজিত করেছিলেন ববি রিগসকে। সেই ম্যাচ পরবর্তীতে হলিউডে চলচ্চিত্র হিসেবেও নির্মিত হয়।

দুজন খেলোয়াড়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচটির ঘোষণা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ম কিছুটা পরিবর্তিত থাকবে—যেমন কিরগিয়স কেবল একবার সার্ভ করার সুযোগ পাবেন। কিরগিয়স বলেছেন, “যখন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় চ্যালেঞ্জ করে, তখন তার জবাব দিতেই হয়। আরিনার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে—সে এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ও সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ থেকে কখনও পিছিয়ে আসি না। আমি শুধু খেলতে নয়, দর্শকদের বিনোদন দিতেও নামবো। এটাই আমার জীবনের আনন্দ।”

৩০ বছর বয়সী কিরগিয়স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইনজুরির কারণে খুব বেশি খেলতে পারেননি। বর্তমানে তার র‍্যাংকিং ৬৫২। একসময় (অক্টোবর ২০২২) তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২০-এ ছিলেন, কিন্তু টোকিও ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে হাঁটুর চোটে সরে দাঁড়ানোর পর থেকে তার খেলা খুবই সীমিত। এরপর থেকে তিনি মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন—একটি জয়, চারটি পরাজয় ও একটি ম্যাচে অবসর নেন। সর্বশেষ তিনি এ বছর মার্চে মায়ামি ওপেনে খেলেছিলেন।

অন্যদিকে, ২৭ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা বলেন, “নিকের প্রতিভার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে, তবে আমি এখানে আমার সেরাটা দিতে এসেছি। আমি প্রস্তুত আমার ‘এ-গেম’ দেখানোর জন্য।”

১৯৭৩ সালের 'ব্যাটেল অব সেক্সেস’ ম্যাচের পটভূমিতে ছিলেন ববি রিগস, যিনি তখন ৫৫ বছর বয়সী ও অবসরপ্রাপ্ত খেলোয়াড়। তিনি প্রথমে মার্গারেট কোর্টকে পরাজিত করেন ৬-২, ৬-১ ব্যবধানে—যা ‘মাদার ডে ম্যাসাকার’ নামে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে বিলি জিন কিং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং ৯ কোটি টিভি দর্শকের সামনে রিগসকে ৬-৪, ৬-৩, ৬-৩ ব্যবধানে হারান।

সাবালেঙ্কা বলেন, “বিলি জিন কিং নারীদের টেনিসে যে অবদান রেখেছেন, তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। আমি গর্বিত যে এই প্রজন্মের ‘ব্যাটেল অব সেক্সেস'-এর অংশ হতে পারছি।”

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, নারী-পুরুষ একক ম্যাচের রেওয়াজ নতুন নয়। ১৮৮৮ সালেই উইম্বলডনের পুরুষ ও নারী চ্যাম্পিয়ন আর্নেস্ট রেনশ ও লটি ডড মুখোমুখি হয়েছিলেন, যেখানে রেনশ জয় পান ২-৬, ৭-৫, ৭-৫ ফলে।

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে ইভন গুলাগং কওলি পরাজিত করেন ইলি নাস্তাসেকে, এবং ২০১৭ সালে ব্রিটিশ তারকা জোহান্না কন্তা হারান প্যাট ক্যাশকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত