শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বিপর্যয়

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশজুড়ে ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট ১০ শতাংশ কমানো হবে। চলমান ৩৬ দিনের দীর্ঘ মার্কিন সরকার বন্ধের কারণে বুধবারে (৫ নভেম্বর) এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাটডাউন।
 
রয়টার্স এর সূত্রে জানা যায়, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো বেতন ছাড়া কাজ করে যাওয়া ১৩ হাজার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং ৫০ হাজার টিএসএ কর্মকর্তার ওপর চাপ কমানো। বিমানসংস্থাগুলোকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সময়সূচি পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফলে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং এয়ারলাইনগুলোর হেল্পলাইন গুলোতে কলের চাপ পড়েছে।

ডাফি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি সরকার পুনরায় চালু করতে রাজি হয়, তাহলে এই কাটছাঁট তুলে নেওয়া হতে পারে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রথমে ৪ শতাংশ হারে ফ্লাইট কমানো শুরু হবে, যা ধীরে ধীরে আগামী সপ্তাহে ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে আন্তর্জাতিক রুটগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।

নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ডালাসের মতো ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলো এই কাটছাঁটের আওতায় পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি ফ্লাইট এবং ২ লাখ ৬৮ হাজার আসন কমে যেতে পারে বলে বিমান বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সিরিয়াম জানিয়েছে।

বাজারে এই ঘোষণার পর প্রধান বিমানসংস্থাগুলোর শেয়ারমূল্য প্রায় ১ শতাংশ কমে গেছে।

এখন পর্যন্ত শাটডাউনের কারণে লাখো ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, প্রভাব পড়েছে ৩২ লাখেরও বেশি যাত্রীর ওপর, আর ৭ লাখ ৫০ হাজার সরকারি কর্মচারী কাজ হারিয়ে বেকার অবস্থায় আছেন। হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থা—উভয়কেই হুমকির মুখে ফেলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত