পাখির খাদ্যের নামে পাকিস্তান থেকে এলো ২৫ টন পপি বীজ

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৫০ এএম

পাকিস্তান থেকে দুই কনটেইনারে আসার কথা ছিল পাখির খাদ্য। তবে কনটেইনার দুটি খুলে পাওয়া গেছে আমদানি-নিষিদ্ধ ২৫ টন (২৪ হাজার ৯৬০ কেজি) পপি বীজ। পরে সেই বীজ আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। গতকাল বৃহস্পতিবার পপিবীজ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাস্টম হাউজের ডেপুটি কমিশনার এইচ এম কবির।

তিনি জানান, পাকিস্তান থেকে আসা এসব পপিবীজ গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। পরে এই কনটেইনার দুটি ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের অফডকে খালাসের জন্য স্থানান্তর হলে কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এগুলো আটক করে।

পপিবীজ আটক প্রসঙ্গে এইচ এম কবির বলেন, চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা, তবে পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসব পণ্য চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জের মেসার্স আদিব ট্রেডিংয়ের নামে পাকিস্তান থেকে আসে।

জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর দুই কনটেইনার পাখিখাদ্য আসার পর এগুলো খালাসের জন্য হালিশহরের শান্তিবাগের এমএইচ ট্রেডিং নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ১৪ অক্টোবর কাস্টম হাউজে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেছিল। চালানটির খালাস স্থগিত রেখে ২২ অক্টোবর কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় ৭ হাজার ২০০ কেজি পাখি খাদ্যের আড়ালে পাওয়া যায় ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি নিষিদ্ধ পপিবীজ। এসব পণ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে পণ্যটি আসলে পপি সিড, যা আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুযায়ী নিষিদ্ধ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুসারে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য।

কনটেইনারের ভেতরে পপিবীজের বিষয়টি যাতে ধরতে না পারে, সেজন্য কনটেইনারের সামনের দিকের বস্তাগুলোয় ছিল পাখির খাদ্য এবং ভেতরের দিকে ছিল পপিবীজ।

ডেপুটি কমিশনার এইচ এম কবির বলেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ঘটনায় কাস্টম আইন ২০২৩ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চালান জব্দের এ ঘটনায় বন্দর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ডিপো কর্র্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত