রাজৈরে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যা

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম

মাদারীপুরের রাজৈরে স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে ঝগড়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মজুমদারকান্দি খালপাড় গ্রামের বেপারি বাড়িতে। নিহত মাহফুজা বেগম (৩৫) একই গ্রামের শ্রমিক তৌহিদ বেপারীর (৪০) স্ত্রী। তিনি তিন কন্যা শিশুর জননী। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দি গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

এর আগে সোমবার সকালে স্বামীর বাড়ির পাশে চিকন একটি আমগাছের সঙ্গে হাঁটুগেড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মাহফুজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত স্বামী তৌহিদ।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহফুজা রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দি গ্রামের তোফেল বেপারীর মেয়ে এবং অভিযুক্ত তৌহিদ একই উপজেলার মজুমদারকান্দি খালপাড় গ্রামের সোবাহান বেপারীর ছেলে। পেশায় শ্রমিক তৌহিদকে বিয়ের সময় মেয়েকে সুখে রাখার আশায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই পারিবারিক কলহ শুরু হয়। সমাধানের জন্য মাহফুজার ভাই আরও টাকা দেন।

রবিবার রাতে তৌহিদের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান মাহফুজা। এসময় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে খুঁজতে বের হন তৌহিদ এবং হত্যার হুমকি দেন। সোমবার ভোরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় হাঁটুগেড়ে বসা অবস্থায় একটি আমগাছে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন রাজৈর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই তৌহিদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাঁদের সংসারে তিন শিশু কন্যা রয়েছে।

নিহত মাহফুজার ভাই সোবাহান বেপারী অভিযোগ করে বলেন, “তৌহিদের সঙ্গে এক মহিলার সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করত। রবিবার রাতেও ঝগড়া করে ওকে মারধর করেছে। পরে আমার বোনকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে তৌহিদ। আমি মামলা করব। আইনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।”

তিনি আরও জানান, “মর্গ থেকে লাশটি আমাদের বাড়িতে আনা হয়েছে। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হবে।”

অভিযুক্ত তৌহিদ বেপারীর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, ঘর তালাবদ্ধ এবং পরিবারের কেউ উপস্থিত নেই।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত