বগুড়ায় ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী তোজাম্মেল হক (৪৫) হত্যার ঘটনায় ৮ বছর পর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শাজাহান কবির এ রায় ঘোষণা করেন।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট আব্দুল বাছেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত তোজাম্মেল হক দুর্গাহাটা ইউনিয়নের নিজ দুর্গাহাটা গ্রামের মৃত ওসমান মোল্লার ছেলে।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. বাবুল প্রামাণিক ওরফে আবুল কালাম আজাদ, মো. মনিরুজ্জামান ওরফে মিশু এবং মো. মানিক। তাদের মৃত্যুদণ্ড গলায় ফাঁসি দিয়ে কার্যকর করা হবে।
এ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. দেলোয়ার হোসেন দুলু, মো. পিন্টু ওরফে মাজেদুর রহমান এবং মো. আশিক হাসান ওরফে আশিক। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. পিন্টু ওরফে মাজেদুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাকি আসামিরা পলাতক। মামলায় অভিযুক্ত মো. শান্ত শাকিদার দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তাকে আদালতে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তোজাম্মেল হক বৈঠাভাঙা গ্রামে একটি বিয়ের দাওয়াত থেকে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরারপথে বৈঠাভাঙা চারমাথা এলাকায় আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার করে। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ওই হামলায় নয়ন মোল্লা ও আসাদ নামে দু'জন গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পরের দিন (২৮ নভেম্বর ২০১৭) নিহত তোজাম্মেল হকের ভাই মমিন মোল্লা বাদী হয়ে গাবতলী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট আব্দুল বাছেদ জানান, মামলার দীর্ঘ ৮ বছর পর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ৩ জনের ফাঁসি ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া একজনের দোষ প্রমাণ না হওয়া তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলা রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ খুশি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
