ভারতে ২০২৭ সালের আদমশুমারির অংশ হিসেবে ১৯৩১ সালের পর প্রথমবারের মতো জাত সংখ্যা গণনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল বিভিন্ন জাতি ও উপজাতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা, যা সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি এবং শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানে সংরক্ষিত কোটা বণ্টন আরও লক্ষ্যভিত্তিক করতে সাহায্য করতে পারে।
সমর্থকেরা মনে করেন, জাত সংখ্যার তথ্য দরিদ্র ও সুবিধাভোগী উভয়দের চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতি পরিমার্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, জাত গণনা সমাজের বৈষম্যমূলক শ্রেণিবিন্যাসকে আরও দৃঢ় করতে পারে। ভারতীয় লেখক,গবেষক ও সমাজকর্মী আনন্দ তেলতুম্বড়ে এটিকে ঔপনিবেশিক প্রতিধ্বনি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই পদক্ষেপ প্রকৃত সংস্কারের বদলে বর্ণবাদ শক্তিশালী করে এবং বৈষম্যকে দৃঢ় করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি জাত সংখ্যার তথ্যকে আয় ও শিক্ষার স্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তা ভারতের কল্যাণব্যবস্থাকে জাতিভিত্তিক থেকে অধিকারভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে পারে। তবে এ পদ্ধতিতে চ্যালেঞ্জ কম নয়। জাতির উপ-শ্রেণীবিন্যাস, তথ্য সংগ্রহের যথার্থতা, এবং সহায়তা সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া-সবই জটিলতার উদাহরণ।
যদিও এই গণনা সামাজিক বৈষম্য স্পষ্টভাবে চিত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবুও বিতর্ক রয়েছে যে, এটি কি সত্যিকারের সমতা বাড়াবে নাকি শুধুই জাতিভিত্তিক রাজনীতিকে প্রশাসনিক রূপ দেবে।