ঢাকার বাইরে বিচ্ছিন্ন নাশকতা

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১৬ এএম

পতিত আওয়ামী লীগের লকডাউন ঢাকায় বড় ধরনের কিছু না হলেও একাধিক জেলায় নাশকতা হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার কোনো কোনো স্থানে আওয়ামীবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে। লকডাউনের ডাক দিলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্য দেখা যায়নি। জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে দুই শতাধিক আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।

এদিকে, গতকাল সকালে ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে পুনরায় হামলা চালিয়ে একাংশে আগুন দিয়েছে। ঝিনাহদহে শেখ মুজিবের ‘এক তর্জনী’ স্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। মাদারীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ রাস্তা অবরোধ করে ককটেল বিস্ফোরল ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ৭টি জেলায় বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে, রেলপথে ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধসহ ৪টি জেলায় যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। শরীয়তপুর ও কুড়িগ্রাম থেকে নাশকতার চেষ্টা ও নাশকতার অভিযোগে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের দখলে ছিল রাজপথ। ভয় ও আতঙ্কে রাস্তায় যানবাহন চলাচল ছিল অনেক কম। ঢাকার বাইরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশের টহল ছিল অনেক কম।

এই বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের কিছু জেলায় নাশকতা করেছে। চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর পাঁয়তারা করলেও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর ছিল। তবে কিছু জেলায় পুলিশের টহল ঢিলেঢালা ছিল তা সত্য। এই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। সামনের দিনগুলোয় তারা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেই দিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।’

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের ৫টি স্থানে সকাল ৬টা থেকে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশের গাড়িসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে জাজিরার পদ্মা সেতু দক্ষিণ, শিবচর, ভাঙ্গা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ চার ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। এই সময় তিনজনকে আটক করা হয় বলে জাজিরার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি গোলাম রসুল জানান। তিনি বলেন, অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে কিছু যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুারো জানায়, আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচিতে সাড়া মেলেনি চট্টগ্রামে। সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহলও দেখা গেছে নগর জুড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর জুড়ে ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় অবস্থানে ছিল বিএনপি, জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে দেখা গেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং বাইক শোভাযাত্রা। উপজেলাগুলোতেও অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম শহরে বুধবার রাত থেকেই দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। লকডাউন ঘোষণায় সাধারণ জনজীবনে প্রভাব পড়েনি। তবে সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। সরকারি- বেসরকারি অফিস-আদালত খুললেও সেবাপ্রার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। শোডাউন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে চট্টগ্রাম শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। মুরাদপুর, ষোলশহর, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, কাজির দেউড়িসহ নগরের আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেয় ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেয় এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বাইক শোডাউনে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখা শিবিরের সভাপতি তানজীর হোসেন জুয়েল ও দক্ষিণ মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

শিবির নেতা তানজীর হোসেন জুয়েল বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কথিত লকডাউন কর্মসূচির নামে দেশে অপতৎপরতা শুরু করেছে। চট্টগ্রামেও তারা অরাজকতা ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধে রাজপথে আছি। আমরা চট্টগ্রামের জনগণের জানমাল রক্ষায় শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে আছি। ছাত্রশিবির সবসময় জনগণের পাশে থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে টার্মিনালে বসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাদারীপুরের খাসেরহাট থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর বাস টার্মিনালে এসে অপেক্ষা করছিলেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যেতে হবে। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ। শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, গতকাল ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় শরীয়তপুরের দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। ওই কারণে মালিক ও শ্রমিকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। তাছাড়া টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ নেই।

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্তম্ভ : ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জাানান, সকাল ১০টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের শহীদ মিনারসংলগ্ন স্বাধীনতা চত্বরের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘এক তর্জনী’ স্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

গভীর রাতে বি বাড়িয়ায় রেললাইনে আগুন : বি বাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে দুবলা এলাকায় দুবৃর্ত্তরা রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশিথা ট্রেনটি পাঘাচাং ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি বি বাড়িয়া রেল স্টেশনে আটকা পড়ে। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, রেললাইনের ওপর প্লাস্টিকের পাইপে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আগুন নিভিয়ে ফেললে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

উজিরপুর বিএনপি অফিসে আগুন : উজিরপুর (বরিশাল) প্রনিনিধি জানান, বুধবার গভীর রাতে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা প্রায় ১ ঘণ্টা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মালামাল পুড়ে গেছে। প্রতক্ষ্যদর্শী সরদার মাইনুল জানান, দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লাভলু চাপরাশী বলেন দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে কার্যালয়ের মূল্যবান ফার্নিচারসহ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উজিরপুর মডেল থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

আগুনের পুরনো ভিডিও ফেসবুকে : বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা সার্কিট হাউজ মাঠে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে আগুন দেওয়ার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ঘটনাটি ছাড়া অন্য ভিডিওগুলো পুরনো বলে দাবি করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে বরগুনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক, বেতাগী ফেরিঘাট এলাকার দুর্জয় চত্বর, কুয়াকাটা-বরিশাল সড়কসহ বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ১৩ নভেম্বর এ সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে পুলিশ জানিয়েছে ভিডিওগুলো পুরনো। আতঙ্ক ছড়াতেই নতুন করে ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে। বরগুনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কিছু দুষ্কৃতিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো ভিডিও প্রচার করে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় যান চলাচল স্বাভাবিক : কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান. ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সকাল থেকে যান চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। এতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপও ছিল অন্য দিনের মতোই। গতকাল সকালে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড, ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট, নিমসার বাজার ও চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। কোথাও কোনো অবরোধ বা প্রতিবন্ধকতার খবর পাওয়া যায়নি। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কড়া অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়াও কুমিল্লা- নোয়াখালী, চাঁদপুর ও সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাদা পোশাকের বিশেষ টিমও মাঠে কাজ করছে। বুধবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে পুলিশের টানা টহল কার্যক্রম। পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় কথা হয় পথচারী জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যবসার কাজে ঢাকা যাচ্ছি। ভেবেছিলাম রাস্তায় সমস্যা হবে, কিন্তু সবকিছুই স্বাভাবিক। অটোরিকশাচালক হাসেম বলেন, সকাল থেকেই যাত্রী ভালো পাচ্ছি। শুনেছিলাম লকডাউন, কিন্তু রাস্তায় তেমন কিছুই দেখি নাই।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, লকডাউন কর্মসূচিকে ঘিরে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। হাইওয়ে, রেলপথ ও শহরে হাইওয়ে পুলিশ এবং জিআরপি যৌথভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে। ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যানবাহনের চাপ কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

ভাঙ্গায় রাস্তা অবরোধের কারণে ৫ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গার সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আওয়ামী লীগের অবরোধের কারণে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এই মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে উভয় পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এই পথে আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল সাতটায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত অবরোধ ছিল। টায়ার জ্বালিয়ে করা এই স্থানের অবরোধ সাড়ে তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়। পরে এই মহাসড়কের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে সকাল সাড়ে ৯টা ও ১০টায় দুই দফায় কয়েক মিনিটের জন্য অবরোধ তুলে নিলেও আবার অবরোধ করা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরোপুরি অবরোধ তুলে নেয় অবরোধকারীরা।

গণপূর্ত ভবনে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ শহরের গণপূর্ত ভবনের সামনে রাখা একটি পিকআপ ভ্যানে দুর্বৃত্তরা বুধবার রাতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে আগুন দিয়েছে। একই রাতে জেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ এই তথ্য জানান। গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারী নাসির উদ্দিন বলেন, গতকাল ভোর সাড়ে চারটার দিকে নৈশপ্রহরীর চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন ভবনের সামনে রাখা পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বলছে। গাড়ির চারপাশে ও সড়কে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন এসে পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার গভীর রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছ কেটে সড়কে ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। রাত তিনটা থেকে ভোর চারটার দিকে গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

চলস্ত বাসে আগুন : টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১টার দিকে মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার বাইখোলা এলাকায় ঢাকা থেকে পাবনাগামী ‘স্টার বাংলা’ নামের যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে পড়েন। ফলে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এস এম হুমায়ূন কার্ণায়েন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যক্রমে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ভ্যানগাড়ি থেকে ককটেল নিক্ষেপ : মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাতে মানিকগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফলপট্টির সামনে দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরে আরিচার দিকে চলে যায়। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। বাস টার্মিনালে রাতে পাহারা দিয়েছেন শ্রমিক দল ও পরিবহন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

যাত্রীবাহী বাসে আগুন : ফেনী প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড় করিয়ে রাখা যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল রাত ১০টার দিকে জেলার সদর উপজেলার রামপুর পল্লী বিদ্যুৎ-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে কিছুক্ষণের মধ্যে আশপাশের লোকজন পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত