পেঁয়াজের দাম কমেনি, সবজিও কিছুটা বাড়তি

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম

রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রমেই বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের কেজি প্রতি দাম ৭০–৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০–১২০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বৃদ্ধির এই চাপ তৈরি হয়েছে।

কাওরানবাজার ও শান্তিনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় মজুতকৃত পেঁয়াজও শেষের দিকে। কাওরানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ‘প্রতি বছরই বছরের শেষদিকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। যদি সরকার পেঁয়াজ আমদানি অনুমোদন দেয়, দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনে পেঁয়াজের দাম বাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শুধু পেঁয়াজই নয়, রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই সবজির দামও বাড়তে দেখা গেছে। গতকাল বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পটল ৬০ টাকায়, কাঁকরোল ও ঝিঙে ৬০–৮০ টাকায়। ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ৫০–৬০ টাকায়, দেশি শশা ৫০–৬০ টাকায়, মুলা ৩০–৪০ টাকায় এবং আলু ২০–২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম ৮০–১৪০ টাকা, টম্যাটো ১২০–১৪০ টাকা, শিম ৮০–১০০ টাকা, ফুলকপি ৩০–৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০–৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।

কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা ষাটোর্ধ আমিনুল জানান, ‘শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঢাকায় সবজি নিয়ে ট্রাক আসছে না। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কমেছে। তবে এটা সাময়িক, আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব। সে কারণে সরকারের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায্য দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত