মানবজীবনের চূড়ান্ত আকাক্সক্ষা জান্নাত। তবে জান্নাতের সর্বোত্তম পুরস্কার হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্য লাভ। কোরআন-হাদিসের ভাষ্যমতে, যারা নবীজি (সা.)-এর পথে চলে, তার আদর্শে জীবন সাজায়, তার ভালোবাসা হৃদয়ে লালন করে, তারা পাবেন সেই অমূল্য পুরস্কার, জান্নাতে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গ লাভ।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির সঙ্গেই থাকবে, যাকে সে দুনিয়ায় ভালোবাসত।’ (সহিহ বুখারি) এই হাদিসটি প্রেম ও আশার এক চিরন্তন বার্তা। যে মানুষ নবীজি (সা.)-কে অন্তর থেকে ভালোবাসে, তার আদর্শে জীবন গড়ে, তার সুন্নাহর পথে অটল থাকে, সে আখেরাতে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গী হবে। এ ভালোবাসা শুধু মুখে উচ্চারণের বিষয় নয়। বরং এটি আমল, আচরণ ও মানবিকতায় বাস্তবায়নের বিষয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।
কন্যা ও বোনদের প্রতিপালন করা : আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) মধ্যমা ও শাহাদাত আঙুলের দিকে ইশারা করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই কন্যা বা দুই বোনের ভরণ-পোষণ করবে কিংবা তিন কন্যা বা তিন বোনের ভরণ-পোষণ করবে, যতক্ষণ না তাদের বিয়ে হবে কিংবা সে মৃত্যুবরণ করবে, আমি এবং সে জান্নাতে এভাবে (পাশাপাশি) থাকব।’ (ইবনে হিব্বান)
এতিমের যত্ন নেওয়া : নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি এবং এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব, এ কথা বলে নবীজি (সা.) একসঙ্গে হাতের দুই আঙুল পাশাপাশি করে দেখান।’ (সহিহ বুখারি) এতিমের মুখে হাসি ফোটানো মানেই নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা অর্জন করা।
উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া : নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।’ (তিরমিজি) সুন্দর চরিত্রই নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভের চাবিকাঠি। সত্যবাদিতা, দয়া, বিনয়, ক্ষমা এই গুণগুলো ধারণ করলেই মানুষ নবীজির প্রিয় হতে পারবে।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শুনে রাখো, যে আমার ওপর বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করবে নিশ্চয় কেয়ামতের দিন সে আমার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত হবে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)
নবীজিকে ভালোবাসা মানে শুধু তার প্রশংসা করা নয়, বরং তার মতো জীবন গড়া। তিনি ছিলেন মানবতার আলোকবর্তিকা, যিনি শত্রুকেও ভালোবেসেছেন, সবার মঙ্গল কামনা করতেন। কেননা তিনি তো বিশ^বাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। যদি আমরা তার মতো সত্যবাদী, দয়ালু, বিনয়ী ও পরোপকারী হতে পারি, তবে জান্নাতে তার সঙ্গ লাভ করতে পারব।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার মা-বাবা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি) তার ভালোবাসা অর্জন মানেই জীবনের পরম জয়। তার প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা, তার আদর্শে অটল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবতার সেবা করা জান্নাতের পথে প্রথম পদক্ষেপ।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
