বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকায় নিহত আব্দুল গনির হত্যার ঘটনায় তার ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে মামলা করা সোহানা আক্তার নামে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার এক নারী আদালতে অভিযোগ দায়েরের পর থেকে লাপাত্তা। আব্দুল গনি হত্যার ঘটনায় রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও ওই নারী ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথকভাবে ২২২ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তেজগাঁও থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। তদন্তকালে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল জান্নাত শাহ বাদীর দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তাকে খুঁজে পাননি। এলাকার লোকজনও তাকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। বাদীর আইনজীবীর মাধ্যমেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মামলায় সোনাগাজীর পালিগিরি গ্রামের ২৮ জনসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দেশের বিভিন্ন স্থানের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, ১০ সাংবাদিক ও ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত ৩০ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ আদেশ দেন, ‘নালিশকারী সোহানা আক্তার আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। বিচারক আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই এবং রমনা থানায় দায়ের হওয়া মামলার অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাদীর অভিযোগের একটি কপি রমনা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সরবরাহের নির্দেশ দেন। বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২(ড)(১) ধারা মোতাবেক রমনা থানার জিআর মামলা নং-৩, তারিখ-০২/০৭/২০২৪, ধারা-৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তেজগাঁও থানার সিআর মামলা নং-২৬১/২০২৫ (ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) স্থগিত ঘোষণা করেন এবং রমনা থানাকে ওই মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত আব্দুল গনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের আরব আলী মিস্ত্রি বাড়ির আহসান উল্লাহর ছেলে। তিনি ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অফিস থেকে বাংলামোটর মোড় হয়ে ইস্কাটন জামে মসজিদের দিকে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার বড় ভাই মহসিন লাশ গ্রহণ করেন। একই দিন রাতে সোনাগাজীর নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ তালিকায় গেজেটে ৪১২ নম্বর ক্রমিকে আব্দুল গনির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের মেয়ে আয়েশা আক্তার পপির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছে, তারা হত্যার ঘটনায় কোনো থানা বা আদালতে মামলা করেননি।
