ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা : উপদেষ্টা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

দেশে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ঢাকা, বিশেষ করে পুরনো ঢাকা, কারণ এখানে ঘনবসতি, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ এবং খোলা জায়গার ঘাটতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় গত পাঁচ বছরে যে কয়বার ভূমিকম্প হলো, এ রকম জোরে এত শক্তিশালীভাবে ভূমিকম্প আমরা এর আগে অনুভব করিনি। এর মধ্যে দিয়ে বারবার আমাদের একটা সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। ভূমিকম্প অন্য একটা জায়গায় অরিজিনেট করে, তার টেইলের দিকে আমরা থাকি। সেখানেই যদি আমাদের এই অবস্থা হয়, তাহলে যেখানে অরিজিনেট করে নিশ্চয়ই সেখানে আরও অনেক শক্তিশালী হয়। তো বারবার যে আমাদের সতর্কবার্তাটা দেওয়া হচ্ছে, এটাকে তো আমাদের আসলে বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতিটা নেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, যেমন ধরেন আজকে আমি আপনাদের সঙ্গে যে অনুষ্ঠানে ছিলাম, সেখানে দ্রুততার সঙ্গে নেমে আমি একটা খোলা জায়গায় দাঁড়াতে পেরেছি। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গাতে তো খোলা জায়গায় দাঁড়ানোর কোনো উপায়ই নেই। খোলা কোনো জায়গাই আমরা রাখিনি।

ঢাকা শহরে সুউচ্চ ভবন হবে কি হবে না সে বিতর্কে যে এলে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার কারণ হচ্ছে এ দেশের মানুষকে হয় আপনার ওপরের দিকে যেতে দিতে হবে, নতুবা আপনাকে সমান্তরালে যেতে দিতে হবে। সমান্তরালে যেতে দিলে আপনার যে পরিমাণ কৃষিজমি, জলাশয় ভরাট হবে, তার থেকে আমাদের বলা হচ্ছে যে আমরা ওপর দিকেই যাব। কিন্তু কথা হচ্ছে যে আমাদের বিল্ডিং কোডগুলো এখনকার বিল্ডিংগুলো মেনে চলছে।

তিনি বলেন, প্রচুর বিল্ডিং যেগুলো হয়ে গেছে। রাজউকের পরিসংখ্যানে বলে যে, ৯০ শতাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই বা ব্যত্যয় ঘটেছে। সেগুলোর কী হবে, এ রকম ভূমিকম্প যদি রিপিট করতে থাকে। এটা অবশ্যই আশঙ্কার কথা। আমি কোনো স্বস্তির কথা শোনাতে পারছি না। সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতিটা আরও অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আর দেরি না করে এখনই শুরু করা যে পুরনো বিল্ডিংগুলো মজবুত করার একটা প্রকৌশলগত সমাধান আছে, সেদিকে যাওয়া।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিল্ডিংগুলোকে নিয়ে এক ধরনের প্রযুক্তিগত সমাধানের দিকে নিতে হবে। আর জলাশয়ে হাত না দেওয়া, আর পাহাড়ে হাত না দেওয়া। আরেকটা কথা হচ্ছে যে, আমাদের দুর্যোগের প্রস্তুতিও বাড়ানো। আপনি যত নিয়মকানুন মেনেই সবকিছু করেন না কেন, তারপরেও দুর্যোগ যখন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তখন আপনি আসলে করবেনটা কী?

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখি যে একটা বড় ধরনের অগ্নিকা-েও যখন আমাদের ফায়ার সার্ভিস যায়, তাদের ভলান্টিয়াররাও কিন্তু মারা যায়। তার মানে আমাদের প্রশিক্ষণের আরও বেশি প্রয়োজন আছে। আমাদের অগ্নিঝুঁকি আর ভূমিকম্পঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আমার মনে হয় তিন বছরের একটা কর্মসূচি নিয়ে যেখানে যেখানে আমাদের ঘাটতি আছে সেগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত