ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম বন্ধসহ ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে ২ ডিসেম্বর থেকে ধর্মঘট

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম বন্ধসহ ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে জেলায় লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের দাবি বাস্তবায়নে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেয়। 

জেলা শহরের কাউতলীতে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

মানববন্ধনে পরিবহন নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ারকে অপসারণ, ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি বন্ধ, আটক যানবাহন দ্রুত মালিকের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া, পরিবহন নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, শহরে মালবাহী যানবাহনের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ, বাঁশবাজার এলাকায় ট্রাক লোড–আনলোডের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ, সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, রিকুইজিশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং রিকুইজিশনকৃত গাড়ির মালিক–চালকদের সরকারি ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

জেলার অভ্যন্তরে চলাচলরত বাস, ট্রাক, ট্যাংকলরি, মাইক্রোবাস এবং সিএনজি অটোরিকশাসহ সব যান্ত্রিক যানবাহনের ১১টি সংগঠন নিয়ে গঠিত জেলা সড়ক পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদ স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে জ্বালানি, টায়ার, টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম পাঁচ গুণ হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ব্যবসা অলাভজনক হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ের করোনা পরিস্থিতি এবং গত ৫ আগস্টের পর থেকে পরিবহন ব্যবসা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। 

এ ছাড়া আশুগঞ্জ থেকে কুটি পর্যন্ত ফোর লেনের কাজের ধীরগতি এবং রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে মাসে ১০ দিনও গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ার বিভিন্ন কৌশলে বেআইনিভাবে মালিক–শ্রমিকদের হয়রানি এবং যানবাহনের ক্ষতি করছেন।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মালিক–শ্রমিকদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে অপমান করছেন এবং বেআইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে শত শত সিএনজি অটোরিকশা ও চারটি বাস আটক করে রেখেছেন। বহুবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি এবং সন্তোষজনক জবাবও দিচ্ছেন না। তার স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও বেআইনি কর্মকা-ের ফলে পঞ্চাশ–ষাট হাজার মালিক–শ্রমিক ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। তাই অতি দ্রুত তাকে অপসারণ করা প্রয়োজন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নিয়ামত খান, সদস্য সচিব মো. মেরাজ ইসলামসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা। পরে সাত দফা দাবির স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত