রামেকে সাপে কাটা রোগীর জন্য বিশেষ ওয়ার্ড 

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৯ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাপের কামড় ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড চালুর পর মৃত্যু হার কমেছে। এই ওয়ার্ডটি চালুর পর থেকে গত এক মাসে এখানে আসা সাপে কাটা কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি। ওয়ার্ড খোলার পরই চিকিৎসা সেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই ওয়ার্ড খোলার আগে হাসপাতালে আনা সাপে কাটা রোগীর প্রায় ৪০ ভাগই মারা যেতেন। 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য মতে, রামেক হাসপাতালে জুলাই মাস থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিষহীন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছে ৭৯৫ জন। আর বিষধর সাপের কামড় খেয়ে ভর্তি হন ৩৪১। শুধুমাত্র রাসেলস ভাইপারের কামড় খেয়ে নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৬৮ জন। এদের মধ্যে গত ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ জন।

সাপে কাটা রোগীর উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রামেক হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয় গত ২৩ অক্টোবর। গত এক মাসে (২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর) এই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১১ জন। এদের বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগী এসেছেন ৩৬ জন। সকলেই সুস্থ হয়েছেন। যা রামেকের জন্য নতুন মাইলফলক বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

গত ২৩ অক্টোবর রামেক হাসপাতালে ১২ শয্যার এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডটি চালু করা হয়। হাসপাতালের পুরনো ক্যানটিনের জায়গায় গড়ে ওঠা এই ওয়ার্ডে সাপের বিষ জনিত জটিলতা শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা ও স্নায়বিক সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়ার্ডে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী রোগীর জন্য শয্যা রাখা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আগে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যু হার ছিল ২৭ শতাংশ। এখন সমন্বিত চিকিৎসা, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নার্স এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের কারণে মৃত্যু হার অনেক কমে এসেছে। রোগী ওয়ার্ডে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়, এতে বাঁচার হার আরও বেড়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, দেশের মধ্যে প্রথম আমরা সাপে কাটা রোগীদের জন্য সাপের কামড় ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড চালু করি। এখানে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের আগে থেকেই ‘স্নেকবাইট ন্যাশনাল গাইডলাইন’ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগে বড় ওয়ার্ডের কোণায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা হতো, অনেক সময় দেরিও হতো। এখন পৃথক ওয়ার্ড থাকায় রোগীরা দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা পাচ্ছেন।

হাসপাতাল পরিচালক আরও বলেন, এই ওয়ার্ডটি এখন বেশ ভালো কাজ করছে। গত এক মাসে এখানে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি। মূলত এখানে রোগীদের চিকিৎসার আলাদা ব্যবস্থার কারণেই তারা দ্রুত সেরে উঠছে। আশা করছি ভবিষ্যতেও এটি ভালোই কাজ করবে। আগে রামেক হাসপালের সাপে কাটা রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশেরই মৃত্যু হতো। এই বিশেষ ওয়ার্ডটি চালুর পর মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে এসেছে। মৃত্যু হার কমিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা হাসপাতাল পরিচালকের।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত