এরশাদ এবং শেখ হাসিনার চরিত্রে পার্থক্য নেই : রিজভী

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪১ এএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এরশাদ এবং শেখ হাসিনার চরিত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। তারা প্রকাশ্যে মুখোমুখি থাকলেও শেষ মুহূর্তে হাত মিলিয়েছেন, এক হয়েছেন, গণতন্ত্রকে বারবার গলা কেটে হত্যা করেছেন। উভয় শাসনামলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলনের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ’৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজিত আলোচনা সভায় রিজভী এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ইকোনমিকস শব্দ থাকলেও শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে যা হয়েছে তা হলো হাসিনোমিকস। ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তা ফেরত না দিলেও চলবে, এটাই ছিল সেই নীতি। পরিশোধ না করেও নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল শেখ হাসিনার আমলে। দেশ আজ সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন সরকারকে অর্থনীতিকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একদিকে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অন্যদিকে ধস নামছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না, বেকারত্ব বাড়ছে, এসব বিষয়ে সরকারকে নজর দিতে হবে।’

সম্প্রতি ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণ জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের দুটি ভল্ট থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ বের হচ্ছে কীভাবে? ভল্টে নাকি আরও স্বর্ণ আছে, এ নিয়ে নানা কথাবার্তা চলছে। এই স্বর্ণ শেখ হাসিনা বা তার দলের ঘনিষ্ঠ কারও কি না, তা শিগগিরই হয়তো প্রকাশ পাবে।’

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা জনগণের সঙ্গে থাকবে, তারা টিকে থাকবে; যারা এর বিরোধিতা করবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হারিয়ে যাবে। বাংলাদেশের যত অভ্যুত্থান হয়েছে, যত আন্দোলন হয়েছে তার প্রত্যেকটা প্রস্তুতি ছিল বেশ কিছুদিনের। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে গিয়ে এটা বিস্ফোরিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনটা আমাদের আন্দোলনেরই একটা অংশ। নির্বাচন ছাড়া তো গণতন্ত্র হয় না। সেই গণতন্ত্রের স্বার্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সেই নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা দায়িত্ব পেলে জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা কাজ করব, আমাদের সমস্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছে তাদের মধ্যে আরেকটা দল (জামায়াতে ইসলামী) আছে, যারা আমাদের সঙ্গে সরকারে ছিল। কিন্তু যখন সমালোচনা করে তখন ভাবটা এমন যে, তারা কোনোদিন কোনো সরকারে ছিল না একেবারে নিরপরাধ। অথচ তাদের দুই ছিল (মন্ত্রিসভায়) সরকারে ছিল।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দীন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রমুখ।

এর আগে সকালে ’৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে শহীদ মিলনের স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আমান উল্লাহ আমানের নেতত্বে ছাত্রনেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত