সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক কোনোভাবেই শিশুদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের আন্দোলনে যেতে পারেন না। এটি নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।
তিনি জানান, শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে, তবে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার বড় হওয়ায় রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।
সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যেখানে প্রধান শিক্ষকরা ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পর উচ্চতর গ্রেড এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ব্যানারে মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবুর রহমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির পর মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে কর্মস্থলে ফিরলেও দাবির বাস্তব অগ্রগতি না দেখে তারা আবার কর্মবিরতিতে যান। ২৭ নভেম্বর ডিপিই মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকেও শিক্ষক নেতারা পরীক্ষা বর্জন থেকে সরে আসেননি। তাদের বক্তব্য দাবির নিশ্চিত সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। ১ ডিসেম্বর পরীক্ষার দিনেও অনেক জেলায় শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে কিছু এলাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে পরীক্ষা নেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী পরীক্ষা বর্জন, কর্মবিরতি স্পষ্টভাবে অসদাচরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধি-নিষেধ থাকলেও শিক্ষক নেতারা ঘনঘন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন এবং সরকারি কার্যক্রমে অন্যদের বাধা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডিজি বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা ভঙ্গ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে — এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, আমরা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে স্কুলকে আকর্ষনীয় করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যারা পাঠদান করাবে শিক্ষক সে শিক্ষকদের চাকরীটাও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দিকে রয়েছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি এবং শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৩৫ জন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৯ হাজারের বেশি। বেজলাইন সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুর জেলায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে শতকরা ৩০-৪০ শতাংশ শিশু এবং ইংরেজি বিষয়ের ৪০-৫০% স্বাধীনভাবে বই পড়তে পারে না। এর মধ্যে অধিকাংশ শিশু গণিত স্থানীয়মান, ভগ্নাংশ, জ্যামিতিক চিত্র এবং বৈশিষ্ট্য, বর্ণ, কার চিহ্ন ও ফলাচিহ্ন এবং যুক্তবর্ণ ভেঙে নতুন শব্দ গঠন করতে পারেনা।
