ফরিদপুরে সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড় ধ্বংস

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৩ এএম

জুতা তৈরির আঠা, ফিটকিরি, নিম্নমানের চিটাগুড় (গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত), নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ক্ষতিকর রঙ ও ফ্লেভার, পচা মিষ্টি, মিষ্টির নষ্ট গাদ, ময়দা, সোডাসহ নানা বিষাক্ত উপাদান দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল মণকে মণ ভেজাল খেজুর ও আখের গুড়। ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো এসব গুড়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এভাবে ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছিল। অবশেষে গত মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর শহরতলির মাচ্চর ইউনিয়নের শিবরামপুরের ছোট বটতলা এলাকায় ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় হানা দিয়ে সাড়ে ছয় হাজার কেজি ভেজাল গুড়, গুড় তৈরির সরঞ্জাম ও উপকরণ জব্দ করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ছোট বটতলা এলাকায় স্বপন কুমার শীল গড়ে তোলেন ভেজাল গুড়ের একটি কারখানা। নজরদারির জন্য একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে চারদিকে টিন দিয়ে উঁচু করে ঘেরা নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় কারখানাটিতে রাত-দিন চলত ভেজাল গুড় উৎপাদন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার মালিক স্বপন কুমার শীল প্রভাবশালী একটি মহলকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম করে আসছিল। স্থানীয়দের কখনো কারখানার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হতো না।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কারখানাটিতে অভিযান চালান। অভিযানের খবর পেয়ে কারখানার মালিক স্বপন কুমার শীল ও তার কর্মচারীরা পালিয়ে যান। কারখানার ভেতরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড়, গুড় তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ করা ভেজাল গুড় পরে ধ্বংস করা হয়। এ সময় কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আজমল ফুয়াদ, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রশিদ।

সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান জানান, অভিযানের সময় কারখানায় টিনজাত চিটাগুড়ের সঙ্গে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরিসহ ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে চিনি ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি হচ্ছিল। সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড় ও রাসায়নিক ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়। তিনি বলেন, কারখানার মালিককে না পাওয়ায় তাকে আসামি করে নিরাপদ খাদ্য আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত