দিনের আলো স্তিমিত হয়ে এলে শের-ই বাংলায় জ্বলে ওঠে ফ্লাডলাইট। ঠিক সেই সময় মোহাম্মদ ইফরান হোসেনের কাট শটে ব্যাকওয়ার্ড দিকেই সহজ ক্যাচ তুলেছিলেন ১৬১ রানে থাকা আনিসুল ইসলাম ইমন। কিন্তু হাতেই সুযোগ এসেও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন ইরফান শুক্কুর। মুহূর্তেই নেমে আসে হতাশা—চট্টগ্রাম শিবির যেন অবিশ্বাসে স্তব্ধ।
এ তো কেবল একটি দৃশ্য। জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের প্রথম দিনজুড়ে চট্টগ্রামের ফিল্ডারদের ভোগান্তির বড় কারণ ছিলেন ঢাকার ওপেনার ইমন। তাকে নিখুঁত সঙ্গ দিয়েছেন অভিজ্ঞ মার্শাল আইয়ুব।
মিরপুরে প্রথম দিনের খেলা শেষে ঢাকা বিভাগ দাঁড়িয়েছে ২ উইকেটে ৩৫৬ রানে। শেষ সেশনে একটিও উইকেট না হারিয়ে ৩১ ওভারে যোগ হয়েছে আরও ১৬৩ রান। ক্যারিয়ারের সেরা ব্যাটিংয়ে ইমন অপরাজিত ১৮৩ রানে। মার্শালও নতুন দিন শুরু করবেন ১০৯ রানে।
চট্টগ্রাম টস জিতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানালেও প্রথম সেশনে কোনো সাফল্য পায়নি। শেষ দিকে আঘাত পেয়ে আশিকুর রহমান শিবলি মাঠ ছাড়েন এবং ২৭ রানে অবসর নেন, ফলে ৭২ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর ফয়সাল আহমেদ রায়হান (৯) ও জিসান আলম (২২) আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে ঢাকা।
কিন্তু এরপরেই দৃঢ় ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন ইমন ও মার্শাল। প্রথম শ্রেণিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি ছুঁতে ইমন খেলেন ১৩৭ বল, মারেন ১১ চার ও ৩ ছক্কা। ১৯২ বলে ছোঁয়া ১৫০-ও আসে দারুণ আত্মবিশ্বাসে। দিনের শেষ দিকে মার্শালও ১১৯ বলে ১২ চারে লিগের তৃতীয় ও ক্যারিয়ারের ২৯তম সেঞ্চুরি তুলে নেন।
অন্য ম্যাচগুলোতেও উত্তাপ ছিল সমান। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শীর্ষে থাকা সিলেটের বিপক্ষে বরিশাল প্রথম দিন শেষ করেছে ৯ উইকেটে ২৬৯ রানে; দলের পক্ষে ইফতি ৬৩ ও হাফিজুরের ব্যাটে ৫৮ রান আসে। সিলেটের তারেক নেন ৩ উইকেট।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ময়মনসিংহ ২১৯ রানে রাজশাহীকে অলআউট করে নিজেরা তুলেছে ২ উইকেটে ৭৩ রান। রাজশাহীর হয়ে নাঈম আহমেদ করেন ৮১, সোহান ৪৪। ময়মনসিংহের আবু হায়দার রনি শিকার করেন ৩ উইকেট।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে খুলনা প্রথম দিন শেষ করে ৯ উইকেটে ৩০২ রানে। সৌম্য সরকারের ৫৫ বলে ৫৬ রানই ছিল দিনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ইনিংস। নাসির হোসেন নেন ৩ উইকেট। পারি।
বোয়েটাংয়ের প্রথম হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের দাপুটে জয়, আবাহনীর ড্র 