গাজায় ইসরাইলি দখলদারিত্ব শেষ হলে ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের (পিএ) কাছে অস্ত্র সমর্পণ করবে হামাস। গত শনিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনটি। হামাসের আলোচক দলের প্রধান এবং সংগঠনটির গাজা প্রধান খলিল আল-হায়া বিবৃতিতে বলেন, দখলদারি ও আগ্রাসনের কারণেই আমরা অস্ত্র রাখছি। তবে দখলদারির অবসান ঘটলে এসব অস্ত্র রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রাষ্ট্র বলতে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের কথা বুঝিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-হায়ার দপ্তর। খলিল আল-হায়া আরও বলেন, আমরা গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্তে নজরদারির জন্য জাতিসংঘের বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। তবে শুধু হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হলে, তা মেনে নেওয়া হবে না। তবে নানা অজুহাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা চালানো ইসরাইলের নিত্যদিনের ঘটনা। এতে প্রতিদিন হতাহত হচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় সময় শনিবার ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রমের অভিযোগে আবারও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি ছোড়ে নেতানিয়াহুর সেনারা। পূর্বাঞ্চলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। প্রাণ বাঁচাতে শহরের অন্য প্রান্তে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন বাসিন্দারা। একইদিন, পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। পাশাপাশি রাফা সীমান্ত একপাক্ষিকভাবে খুলে ফিলিস্তিনিদের মিসরে স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন মুসলিম দেশের নেতারা। দোহায় এক সম্মেলন শেষে যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী রাফা সীমান্ত দুই দিক থেকেই খুলে দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে থেকে তা পুনর্নির্মাণের বিষয়েও সহমত জানান তারা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের দাবি, চুক্তির পরের ধাপে পৌঁছাতে না পারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বিশাল পরাজয় বলে গণ্য হবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। দোহা ফোরামের সাইডলাইনে শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ফিলিস্তিনে একটি নির্ভরযোগ্য স্থানীয় প্রশাসন ও প্রশিক্ষিত পুলিশ বাহিনী তৈরির মাধ্যমে হামাস নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। তবে এসব প্রাথমিক কাঠামো গড়ে না ওঠলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়েই হামাসের অস্ত্র ত্যাগের দাবি বাস্তবসম্মত নয় বা কার্যকর হবে না। তিনি জানান, যুদ্ধপরবর্তী প্রস্তাবিত পুলিশ বাহিনীতে হামাসের কোনো সদস্য থাকবে না। এই বাহিনীকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী সমর্থন দেবে। তুরস্ক ওই বহুজাতিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ দিচ্ছে বলেও জানান ফিদান।
এদিকে, গাজায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতিকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে’ এসে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি। মধ্যস্থতাকারীরা এখন যুদ্ধবিরতির পরের ধাপ বাস্তবায়নে কাজ করছেন, শনিবার কাতারে দোহা ফোরাম সম্মেলনে এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। থানি বলেন, আমরা এখনো একে যুদ্ধবিরতি গণ্য করতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে যখন ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি সরে যাবে, গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, মানুষ ঢুুকতে-বের হতে পারবে, এখনকার পরিস্থিতি তা নয়।
