জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষের বরাতে গতকাল মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ভূমিকম্পে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তীব্র শীতের মধ্যে বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, আগামী কয়েক দিনে একই রকম বা আরও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। আওমোরি অঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে সাগরে সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হোক্কাইডো দ্বীপে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হোনশু দ্বীপের আওমোরি অঞ্চলের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, এ ধরনের কাঁপুনি আমরা আগে কখনো অনুভব করিনি। এটি হয়তো ২০ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানায়, ভূমিকম্পের পর প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গণমাধ্যম জানায়, কিছু অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের পর প্রথমে তিন মিটার পর্যন্ত সুনামির সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। কিছু এলাকায় বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যেন প্রকৌশলীরা রেললাইনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পারেন।
তোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানায়, আওমোরির হিগাশিদোরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পাশের মিয়াগির ওনাগাওয়া কেন্দ্র কোনোটিতেই কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ জেএমএ বা স্থানীয় সরকারের দেওয়া তথ্য নিয়মিত শুনুন। ঘরের আসবাবপত্র ঠিকভাবে আটকানো আছে কি না দেখে নিন এবং কাঁপুনি অনুভব করলে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখুন। ২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে যে সুনামি আঘাত হানে, তাতে ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ারের পশ্চিম প্রান্তে চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।
