ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক ও কৃষক লীগের নেতা আটক

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ পরিচয়ে ১৪৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক, কৃষক লীগের নেতাসহ ৪ জনকে আটক করেছে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশ। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ই ডিসেম্বর বিকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্বর্ণ নিয়ে বাসযোগে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত ৫ জনের একটি ডাকাতদল স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুই ভাইকে তাদের নামে মাদক মামলা আছে বলে সকলের সামনে হ্যান্ড কাফ পড়িয়ে যাত্রীবাহী বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় এবং নোয়া মাইক্রোবাসে তুলে তাদেরকে চোখ বেঁধে মারপিট করে ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা মোট ১৪৫ ভরি ০৮ আনা ০৪ রতি স্বর্ণ অলংকার, দুটি মোবাইল ফোন, কিছু নগদ টাকা, ২টি এটিএম কার্ড এবং ১টি এনআইডি কার্ড ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এরপর ডাকাতরা ভিকটিম দুইজনকে গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানা এলাকায় হাত পা বাঁধা অবস্থায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে ৭টা ৩০ মিনিটের সময় ঢাকার কাফরুল থানা এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নোয়া মাইক্রোবাসের ড্রাইভার মো. জাকির হোসেন (৩৮) কে আক্তারুজ্জামান মুন্সীর বিল্ডিং এর ৫ তলা হতে ১০ ভরি ০৪ আনা এবং নগদ সাত লক্ষ টাকা এবং একই বিল্ডিং ৩ তলা থেকে মো. আক্তারুজ্জামান মুন্সি (৪৩) কে ডাকাতির ৪৩ ভরি ০১ আনা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ০২টি হ্যান্ড কাফ, ০২টি ওয়াকিটকি, ০৩ সেট পুলিশের পোশাক ও ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা নোয়া মাইক্রোবাস আটক করা হয়। 

আটককৃতের দেওয়া তথ্য মতে ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকা হইতে মো. রমজান (৩৫), কে আটক করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে ২০ ভরি ০৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার, স্বর্ণ মাপার স্কেল, মাই টিভির আইডি কার্ড এবং স্বর্ণ বিক্রয়ের নগদ পাচঁ লক্ষ টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানা এলাকা থেকে মো. রমজান আলী (৪০) আটক পূর্বক তার হেফাজত থেকে ১৩ ভরি ০৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং স্বর্ণ বিক্রয়ের নগদ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

৩ নং ডাকাত মো. রমজান জিজ্ঞাসাবাদে জানায় ডাকাতিকৃত স্বর্ণ হইতে ১৪ ভরি স্বর্ণ মিরপুর বড়বাগ এলাকার ইসলাম জুয়েলার্স এর মালিকের নিকট বিক্রি করে। পরে রমজান আলীর দেখানো মতে ইসলাম জুয়েলার্স এর মালিক মো. ইসমাইল হোসেন (৫০) এর কাছ থেকে বিক্রিত ১৪ ভরি স্বর্ণের মধ্য হইতে ০৬ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ অলংকার উদ্ধার করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়।

সর্বমোট ৯৪ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণ বিক্রয়ের নগদ তের লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ০২ হ্যান্ড কাফ, ০২টি ওয়াকিটকি, পুলিশের ০৩ সেট ইউনিফর্ম ও সর্বমোট ০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত আসামী আকতারুজ্জামান মুন্সী, ঢাকার সাব-ইন্সপেক্টর (ইতোমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে) ও আটককৃত মো. রমজান আলী, পিতা- মৃত খোরশেদ আলী  মানিকগঞ্জ জেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষক লীগের সভাপতি এবং আটককৃত মো. রমজান, পিতা- মৃত. কবির শেখ, ঢাকার শাহ আলী থানা এলাকার মাই টিভি প্রতিনিধি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  

তাদের বিক্রি করা আরও কিছু স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পলাতক আরও একজন ডাকাতকে আটক এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত