ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারসহ তিন দফা দাবি আদায়ে কারওয়ান বাজার মোড় ও বাড্ডা-কুড়িল সড়ক অবরোধ করেন মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক বন্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে এ দুই সড়কে চলাচলকারী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সন্ধ্যার দিকে শুরু হওয়া আন্দোলন রাত ৮টা ৪০মিনিট পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সড়ক অবরোধ রাখার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাতায়াতকারীরা। বিশেষ করে অফিস ছুটি শেষে বাসায় ফেরা চাকরিজীবীরা পড়েছেন সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে।
বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ আক্কাছ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ে মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করেছেন। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভের একপর্যায়ে সড়কে কাঠ ও বাঁশের টুকরো জড়ো করে আগুন ধরিয়ে সেøাগান দিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীরা। সড়ক অবরোধ করে হ্যান্ডমাইকে বিভিন্ন সেøাগান দেয়।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর পান্থপথ এবং এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন মার্কেটের মোবাইল ফোন বিক্রেতারা মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজারে এসে অবস্থান নেন। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধদের বিআরটিসির দোতলা বাস ও বেশ কিছু যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। তারা বিভিন্ন সেøাগানে সেøাগানে এনইআইআর সিস্টেম সংস্কারের পাশাপাশি আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রির সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান।
প্রায় একই সময়ে বাড্ডা-কুড়িল সড়ক অবরোধ করে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। সেখানেও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে তারা অবরোধ করে। এতে করে প্রগতি সরণি রাস্তা বন্ধ থাকায় ওই এলাকা ও আশপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারে মাসুম নামের একজন বলেন, ‘মালিবাগ থেকে বাসে চড়ি ফার্মগেট যাওয়ার জন্য। কিন্তু ফ্লাইওভারে উঠেই গাড়ি জ্যামে আটকে যায়। একই স্থানে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বসে থেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আজকাল কিছু হলেই সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে। যে কেউ যেকোনো দাবি নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছি। এই বিষয়টি কেউই খেয়াল রাখে না। এভাবে আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা ঠিক না। আন্দোলন করতে হলে সড়কের পাশে করা উচিত।’
ইয়াসিন নামের এক মোটরসাইকেলচালক জানান, তিনি উবারের মাধ্যমে রাইড শেয়ার করেন। মগবাজার থেকে যাত্রী উঠিয়েছেন মিরপুর যাবেন বলে। কিন্তু কারওয়ান বাজারে এসে আটকে পড়েন। আন্দোলনের কারণে এক জায়গায়তেই আটকে আছেন প্রায় ৪০ মিনিট।
এর আগে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে হ্যান্ডসেট উৎপাদক, বিটিআরসি ও মোবাইল ব্যবসায়ীদের মধ্যে হওয়া বৈঠক শেষে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মো. আসলাম জানান, ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হলেও বিক্রেতারা মার্চ মাস পর্যন্ত আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রির সময় পাবেন। অর্থাৎ মার্চ পর্যন্ত আনঅফিসিয়াল ফোন কিনলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিবন্ধিত হবে। এসব ফোন বন্ধ হবে না। মার্চ মাসের পর থেকে আর আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রির আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের আন্দোলনবিষয়ে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
এনইআইআর সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট-প্রথা বিলোপ এবং মুঠোফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে বৈঠক-অবরোধের পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল দোকান বন্ধের শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। গত রবিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের সামনে অবস্থান নেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। সেদিন আগারগাঁও এলাকায় ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বিটিআরসির সঙ্গে বৈঠকে বসে মোবাইল ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদল। দ্বিতীয় দফায় গত মঙ্গলবারও বিটিআরসির সঙ্গে বৈঠক করে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ।
