বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড হতে যাচ্ছে ২০২৫ সাল। এ বছরটি সম্ভবত শুধু ২০২৪ সালের নজিরবিহীন তাপমাত্রার পর অবস্থান করবে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের (সিথ্রিএস) এক বিবৃতি থেকে এ তথ্য জানা যায়। সিথ্রিএসের মাসিক বুলেটিনে বলা হয়, চলতি বছর সম্ভবত পরপর তিন বছরের প্রথম সময়কাল হিসেবে রেকর্ড হবে, যখন গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সালের প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যে সময় মানুষ প্রথম বৃহৎ পরিসরে জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে শিল্পযুগ শুরু করে। গত বছর ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর।
সিথ্রিএসের জলবায়ু কৌশল বিভাগের প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন, উষ্ণতার এ পরিবর্তন জলবায়ু পরিবর্তনের গতিকে স্পষ্ট করে। দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা হলো সেই লক্ষ্যমাত্রা, যা সবচেয়ে ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয় ঠেকাতে দেশগুলো ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে অঙ্গীকার করেছিল। বিশ্ব এখনো সেই সীমা অতিক্রম করেনি কারণ, লক্ষ্যটি দশকব্যাপী গড় তাপমাত্রাকে নির্দেশ করে। তবে জাতিসংঘ এ বছর জানায়, দেড় ডিগ্রি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নয় এবং দেশগুলোকে দ্রুত কার্বন নির্গমন কমাতে আহ্বান জানায়, যাতে লক্ষ্য অতিক্রমের মাত্রা সীমিত রাখা যায়। গত মাসের কপ-৩০ জলবায়ু সম্মেলনের সিথ্রিএসের এটাই সর্বশেষ তথ্য। সেই সম্মেলনে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে উল্লেখযোগ্য নতুন পদক্ষেপ নিতে দেশগুলো একমত হতে ব্যর্থ হয়, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপড়েনকে প্রতিফলিত করে। বিশেষত জলবায়ু উদ্যোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চাদপসরণ এবং কয়েকটি দেশের কার্বন-নিয়ন্ত্রণে দুর্বল ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে।
চলতি বছরও বিশ্ব জুড়ে চরম আবহাওয়া অব্যাহত ছিল। গত মাসে টাইফুন কালমায়েগি ফিলিপাইনে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। স্পেনে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল দেখা দেয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চার দেশের অকাল বন্যায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে বছর বছর তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এ উষ্ণতার প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে তৈরি হওয়া গ্রিনহাউজ গ্যাস। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রার নথিভুক্তি শুরু করার পর থেকে করা হিসাব অনুসারে, বিশ্বে গত ১০টি বছরই ছিল সবচেয়ে উষ্ণ।
