২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

নিজেই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১৫ এএম

তারেক রহমানের দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করল বিএনপি। প্রায় ১৮ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ব্রিফিংয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হবে।

তারেক রহমান ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানে আছেন। তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।

এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো তারও রয়েছে। তবে অন্য আর সবার মতো সেটা বাস্তবায়ন করা তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতার এ পরিস্থিতি ‘প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত’ হওয়ামাত্রই তিনি দেশে ফিরবেন।

এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই বলে বারবার বলা হয়েছে। অবশেষে গতকাল দলের মহাসচিব জানালেন, তাদের নেতার দেশের ফেরার দিন-তারিখ।

ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি এখন বার্তা দেব। এই বার্তা শুধু আপনাদের (গণমাধ্যম) জন্য নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য একটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে। আমি আপনাদের অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আমাদের কোটি কোটি মানুষের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ যিনি দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন এবং বিগত প্রায় এক যুগ ধরে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র উত্তরণের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। আমাদের সেই সংগ্রামী নেতা, এ দেশের গণমানুষের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ তারেক রহমান আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে আমাদের মাঝে এসে পৌঁছাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে, সবার পক্ষ থেকে আমরা তার আগমনকে শুধু স্বাগত নয়, আমরা আনন্দের সঙ্গে সমগ্র জাতিকে জানাতে চাইছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্রের পথে যে বাধাগুলো সৃষ্টি হয়েছে, আমরা মনে করি তারেক রহমান দেশে এসে পৌঁছালে সব বাধা দূর হয়ে যাবে। আপনারা জানেন যে, একটা বৈঠক লন্ডনে যেটা হয়েছিল আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে, সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আমাদের নির্বাচন সম্পর্কে যতটুকু শঙ্কা ছিল সেটা চলে গিয়েছিল। গতকাল (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের যে রেল চলতে শুরু করেছে, সারা দেশের মানুষের মধ্যে আশা-প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে হাদির ওপর গুলির ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার এই ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, সব অপশক্তি নির্বাচন বানচাল করার জন্য যারা কাজ করছে, এটা তাদেরই চক্রান্ত।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা না বলে পারছি না, আমাদের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য বিএনপির দীর্ঘকালের নেতা মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের একজন প্রার্থী। হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার খবর শুনে তিনি স্বাভাবিকভাবে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সহানুভূতি জানাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেই দলের কিছু ব্যক্তি ও সমর্থক এবং আরও কিছু চক্রান্তকারী উত্তেজনামূলক সেøাগান দেয় এবং মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। সেটার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হুঁশিয়ার করে দিতে চাই সব পক্ষকে। এ ধরনের আচরণ করতে গেলে বিএনপি বসে থাকবে না, বিএনপি তার জবাব দেবে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা কোনোরকমের গোলযোগ ও কোনো সন্ত্রাস চাই না। কিন্তু বিএনপির ওপর আঘাত এলে আমরা সেটা সহজভাবে নেব না। কীভাবে জবাব দিতে হয় সেটা বিএনপি জানে।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাই বলব, মব সৃষ্টি না করে, উত্তেজনা সৃষ্টি না করে, নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট না করে কীভাবে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে সেই কাজটা চেষ্টা করেন। নইলে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ ব্যাহত হবে, গণতন্ত্রের যাত্রাপথ ব্যাহত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেব নিজ হাতে ওনার মনোনয়ন জমা দেবেন সমস্ত জাতির সামনে।’ তার আগে গতকাল চট্টগ্রামে দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারেক রহমান ‘খুব দ্রুত’ দেশে ফিরবেন এবং ‘নিজ হাতে’ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে। এ তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে।

তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সে দেশেই আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত