আলুর উৎপাদন ও ভোগে বৈচিত্র্য আনার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এটা করতে পারলে উৎপাদন কম বা বেশি হলে যে সংকট তৈরি হয় সেটা দূর করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। গতকাল শনিবার ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) আয়োজিত আলু উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, দেশের বিশাল খাদ্যপণ্য আমদানি ব্যয় কমাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। গত বছর আলুর দাম বেশি থাকায় সমস্যা ছিল। আবার এ বছর দাম কম। তাতেও সমস্যা। শুধু রপ্তানির ওপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান হবে না। স্থানীয় ভোগ ও চাহিদা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আলুর দাম কমলেও ভোগ কেন বাড়ছে না। এর কারণ ও প্রয়োজনীয় উৎপাদনমাত্রা বিশ্লেষণ করা দরকার।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিমাগার সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আলু আমাদের দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল ও খাদ্য। ৯০ থেকে ১১০ দিনব্যাপী স্বল্প মেয়াদের এই আলুর ফলন অন্যান্য খাদ্যশস্যের প্রায় তিনগুণ। আলুর এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য হিসেবে আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আলু থেকে প্রক্রিয়াজাতকৃত বিভিন্ন খাদ্য অধিক মাত্রায় উৎপাদন করে এবং গুণগত মানসম্পন্ন আলু বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে।
মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, চীনের ভুই গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজ সাউ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, গত মৌসুমে সারা দেশে ১ কোটি ৪ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। খাওয়ার আলুর চাহিদা ৯০ লাখের মতো। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হয়েছে। বিদেশে কাক্সিক্ষত পরিমাণ রপ্তানি না হওয়ায় দাম কমেছে। এক বছর দাম বাড়ে আবার এক বছর দাম কমে। এই প্রবণতা স্বাস্থ্যকর না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন পর্যায়ে দাম কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশে খাদ্য হিসেবে আলুর বহুমুখী ব্যবহার অনুসন্ধান, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং আলু প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল আলু উৎসব ২০২৫। এতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রান্তিক কৃষক, কোল্ড-চেইন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
