লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রথম দিনেই গতকাল শনিবার তুলকালাম হয়ে গেছে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে। বিপুল দাম দিয়ে টিকিট কিনেও মেসিকে দেখতে পারেননি সাধারণ ভক্তরা। তাকে ঘিরে ছিলেন রাজনীতিবিদ আর বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু এবং অরূপ বিশ্বাসের ‘মেসি দখলের’ লড়াইয়ের কারণেই নাকি এই গোলমালের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল মেসিকে দেখতে না পেয়ে যুবভারতী স্টেডিয়াম নামে পরিচিত সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় উত্তেজিত দর্শকরা। এরপর মেসিকে ভারতে আনার উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিপর্যয়ের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। এসবের পেছনেই আছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
দুই মন্ত্রীর মেসি-দখলের লড়াই শুরু হয়েছিল শুক্রবার গভীর রাতে। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখার পরেই তাকে নিজের ‘দখলে’ নিয়ে নেন সুজিত। বাইপাসের পাশের হোটেল হায়াত রিজেন্সিতে পৌঁছোনো থেকে শনিবার সকাল ১১টা ২৫ পর্যন্ত মেসি ছিলেন সুজিতের ‘হেফাজতে’। যেখানে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপকে মেসির কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। মেসির ৭০ ফুটের মূর্তি উন্মোচন করানো থেকে সবকিছুতেই সুজিত ছিলেন সামনে।
এসব কারণে শুরুতে দৌড়ে খানিকটা পিছিয়ে ছিলেন অরূপ। কিন্তু তার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। তিনি গ্যালারির হাজার হাজার দর্শকের সামনে মেসির দখল নিতে চেয়েছেন। মেসি মাঠে ঢুকতেই অরূপ দলবল-সহ ঘিরে ফেলেন তাকে। তার সঙ্গীসাথীদের মাঝে ছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মী, মাঠের কর্মকর্তা, ফুটবলার এবং টালিউডের নায়ক-নায়িকারা। এখানেই পিছিয়ে পড়েন সুজিত। কারণ, মাঠে তার কোনো গণজমায়েত ছিল না।
অরূপের এই ব্যক্তিগত জমায়েতের কারণেই মেসিকে দেখা থেকে বঞ্চিত হন ১২ হাজার রুপি দিয়ে টিকিট কেটে মাঠে আসা দর্শকরা। শুরু হয় হট্টগোল, বোতল ছোড়াছুড়ি। ২২ মিনিটের মাথায় মেসিকে মাঠ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরের প্রায় একঘণ্টা ধরে মাঠে তাণ্ডব চালায় দর্শকরা। পুলিশ প্রথমে আটকানোর চেষ্টা করলেও পারেনি। লাঠি নিয়ে তেড়ে গেলেও ক্রুদ্ধ জনতার সামনে একসময় পিছু হটতে হয়। প্রতারিত দর্শকরা এখন শতদ্রুর পাশাপাশি এই দুই মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানাচ্ছেন।
-সূত্র: আনন্দবাজার
'ওয়াকওভার' দিয়ে শুরু প্রথম বিভাগ ক্রিকেট
ক্যাপিটালসের মেন্টর হয়ে দীর্ঘদিন পর ঢাকায় শোয়েব আখতার