কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে ফের অভিযান থাইল্যান্ডের

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

চলতি বছর জুলাইয়ে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। তবে সে শর্ত উপেক্ষা করেই ফের সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়েছে দুই দেশ। বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে এ সংঘাত। এতে সীমান্তের দুদিকেই প্রাণহানি ও বেসামরিক নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়েছে। এরই মধ্যে গতকাল রবিবার থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে লড়াই বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর প্রচেষ্টার মধ্যেই এ অভিযান শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ড বলছে, তাদের সার্বভৌম অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য এ অভিযান চালানো হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় ত্রাত প্রদেশে কারফিউ ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ড। এর আগে শনিবার থাইল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেয় কম্বোডিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকবে।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান কংসিরি ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামগ্রিকভাবে কম্বোডিয়া আবারও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংঘর্ষ অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত, তবে কম্বোডিয়াকে প্রথমে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে। তারপরই আমরা আলোচনার টেবিলে বসব। থাই সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি সেতু ধ্বংস করেছে; যা কম্বোডিয়া উপকূলে ভারী অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করতে ব্যবহার করছে এবং কোহ কং প্রদেশে স্থাপিত আর্টিলারির ওপর লক্ষ্যভেদী অভিযান চালিয়েছে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডকে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ করেছে। সাকেও প্রদেশে আগে থেকে আরোপিত কারফিউ এখনো বজায় আছে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল পারাচ রত্তানাচাইয়াপান বলেন, রবিবার ভোরবেলায় অভিযানটি শুরু হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আত্মরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ নীতির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে থাইল্যান্ডের টিভি থ্রি মর্নিং নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া ড্রোন হামলাও হয়েছে। সাম্প্রতিককালে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী এখনো সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে কম্বোডিয়ার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট কম্বোডিয়ানেস বলছে, অন্তত সাতটি এলাকায় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুরসাত প্রদেশও রয়েছে। সেখানে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী থমা দা কমিউনে বোমা ফেলতে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী বান্তেয় মিঞ্চে প্রদেশের বোইয়ুং ত্রাকুন গ্রামের দিকে গোলা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঔপনিবেশিক যুগের সীমানাসংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ থেকে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সূচনা হয়। গত সপ্তাহে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন সেনা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে; যা জুলাইয়ের পাঁচ দিনব্যাপী সংঘর্ষের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র। বাস্তুচ্যুত হয়েছে দুই দেশের সাত লাখের বেশি মানুষ। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮০০ কিলোমিটারের বেশি (৫০০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত