মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে হনুফা বেগম (৪৭) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে জেলার সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নের বাবনাতলা এলাকা থেকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হনুফা সদর উপজেলার পূর্ব রাস্তি এলাকার আহমেদ বেপারীর মেয়ে ও পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকার ইজিবাইক মেকার আনোয়ার বেপারীর প্রথম স্ত্রী। তার প্রাপ্ত বয়স্ক ৩ ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হনুফা ও তার তিন ছেলে সন্তানকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন ইজিবাইক মেকার আনোয়ার। ওই সংসারেও আনোয়ারের ১২ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবতই পারিবারিক কলহ চলে আসছিল।
এক পর্যায়ে স্বামীর কাছে হনুফা দাবি জানায়, তাকে প্রতিদিন একশো টাকা করে দিতে হবে। এ সময় রোজগার কম হওয়ায় নিয়মিত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় আনোয়ার। তবে তালাক দিয়ে কাবিনের ২০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বললে স্বামীর সাথে অভিমানে ফুসে ওঠে হনুফা।
এরই জেরে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন। বিকেলে আড়িয়াল খাঁ নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে সদর থানায় জানায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে শিবচর কলাতলা নৌ ফাঁড়ির পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। এস ময় ঘটনাস্থলে এসে পরিবারের সদস্যরা লাশটির পরিচয় শনাক্ত করেন।
মাদারীপুরের শিবচর কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার মাথায় একটু সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, নিহত নারীর স্বামী ইজিবাইক মেকার আনোয়ার দুইটা বিয়ে করেছে। দুই ঘরে ১২ থেকে ২৭ বছর বয়সী ৪ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর হনুফাকে ঠিক মতো খরচের টাকা দিতো না। এজন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা করে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজি না হওয়ায় এবং কাবিনে লেখা ২০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলায় রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সারাদিন খোঁজাখুজি করেও তাকে পায়নি পরিবারের লোকজন। পরে মরদেহ ভাসতে দেখে খবর দেয় স্থানীয়রা।
