সংকটের শুরুতে গড়িমসি করলেও এখন প্রতিনিয়তই বাড়ানো হচ্ছে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ। কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী গত নভেম্বরে মসলা জাতীয় এ পণ্যটি দেশের বাজারে সয়লাব হয়ে যাওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছিল আদতে তা হয়নি। ডিসেম্বরের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাজারে এখনো নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। এতে করে বাজারে অস্থিরতা এখনো রয়েছে, চড়া দামেই ভোক্তাকে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।
ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ (পুরনো) এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকার মধ্যে। তবে বেশিরভাগ বাজারেই এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি দরে। আমদানি করা পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে।
এই অবস্থায় গত দুদিন ধরে প্রতিদিন ৫৭৫টি করে আইপি (আমদানির অনুমতিপত্র) দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর দুদিনের জন্য প্রতিদিন ৫৭৫টি করে আইপি ইস্যু করা হবে। প্রত্যেকটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেওয়ার কথা জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।
তবে গত ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে যেসব আমদানিকারক আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন তারাই কেবল এই দুদিন পুনরায় আবেদন দাখিল করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পেঁয়াজের আমদানি বাড়াতে প্রতিদিন যেখানে ৫০টি করে আইপি দেওয়া হচ্ছিল সেটা ২০০টিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময়ও প্রতিটি আইপিতে ৩০ টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রদান করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, নভেম্বরে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন স্থানীয় পেঁয়াজ বাজারে আসবে। একইসঙ্গে সাড়ে ৩ লাখ টন পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে বলেও জানানো হয়। ডিসেম্বরে আরও আড়াই লাখ টন পেঁয়াজ বাজারে আসবে বলেও জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়। অথচ এর কিছুদিন পরই আবারও পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা শুরু হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয় পেঁয়াজ আমদানির। তবে সেটা সীমিত পরিসরে। প্রতিদিন ৫০টি আইপির বিপরীতে ৩০ মেট্রিক টন করে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে যখন দেখা গেল পেঁয়াজের স্থানীয় সরবরাহ বাড়ছে না এবং সীমিত আমদানি দাম কমাতে ভূমিকা রাখতে পারছে না তখনই আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বাড়ানো হয় আমদানির পরিমাণ।
