বড়দিন মানেই যেন ইচ্ছে পূরণের গল্প। লোলা জানত না তার ছোট্ট এক টুকরো কাগজে লেখা ইচ্ছের কথা একদিন তাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের কাছাকাছি। পরিবারের সঙ্গে লেস্টার সিটি শপে গিয়ে একটি চিরকুট ঝুলিয়ে এসেছিলেন ক্রিসমাস ট্রিতে। সেখানে লেখা ছিল- প্রিয় ফুটবলার হামজা চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছের কথা।
লোলার বয়স ১০ বা ১২। ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব লেস্টার সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অধিনায়ক হামজা চৌধুরী তার কাছে শুধু একজন ফুটবলার নন, একরাশ অনুপ্রেরণা ও আদর্শিক মানুষ।
লেস্টার সিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই চিরকুটে লেখা স্বপ্ন পূরণ করেছে। একদিন হঠাৎই, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই, লোলার বাড়ির দরজায় হাজির হন হামজা চৌধুরী। হামজাকে দেখে বিস্ময়ে থমকে যান লোলা। প্রিয় ফুটবলারকে এত কাছ থেকে দেখার মুহূর্তে ভাষা হারিয়ে ফেলে সে।
লেস্টার সিটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সেখানে পুরো ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
লোলাকে উপহার দেওয়া লেস্টার সিটির জার্সিতে অটোগ্রাফ দেন হামজা। তার বাড়িতে কিছু সময়ও কাটান। ভিডিওতে লোলা বলেন, 'আমি হামজার খেলা দেখেছি। সে খুবই সম্মানিত। আমি সত্যিই তাকে পছন্দ করি—বিশেষ করে তার চুল।’ এ সময় হামজা মজা করে বলেন, 'যদি আমি আমার চুল কেটে ফেলি, তবে কি তোমার পছন্দের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাব?' লোলার উত্তর ছিল, 'কখনোই না। তখনও তুমি আমার ফেভারিট থাকবে।'
জার্সি উপহার দেওয়ার সময় হামজা জিজ্ঞেস করেন, 'তুমি কি চাও, এই জার্সিতে আমি বিশেষ কিছু লিখি?' লোলা বলেন, 'তোমার নামটাই স্পেশাল। ওটাই লিখে দাও।' এরপর বড়দিন উপলক্ষে বাড়তি কিছু লেখার কথা জানতে চাইলে সম্মতি দেন লোলা।
এ সময় লোলা ব্রাডলি ওয়ালশের (স্টিভ ওয়ালশ, সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড) সঙ্গে সাক্ষাৎ এর আগ্রহ দেখান।
