প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলার শিকার হয় সংবাদমাধ্যম দুটির ঢাকা অফিস।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘ছাত্রনেতার মৃত্যুর পর অস্থিরতায় বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্ছৃঙ্খল জনতা সংঘবদ্ধভাবে (মব) দেশটির সর্বাধিক প্রচারিত প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।

নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির বৃহস্পতিবার রাতে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার শিকার হন। তখন বিক্ষোভকারীরা ভবনটিতে ভাঙচুর চালাচ্ছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে ভিড়ের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। মৌখিকভাবে ‘আওয়ামী লীগের সহযোগী’ বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তার চুল টানা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘আন্দোলনের তরুণ এক নেতার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার সমর্থকরা রাজধানী ঢাকার একটি চত্বরে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এর মধ্যে একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে সেনা মোতায়েন করা হয়। আর ভবনের ভেতরে আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর হাজারো বিক্ষোভকারী ঢাকার রাস্তায় নেমে আসে। তারা তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।

কর্র্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রাজধানীতে কয়েকটি ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ভবনের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ও রয়েছে। এতে ভবনের ভেতরে কর্মীরা আটকে পড়েন।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের একজন কর্মীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুই দৈনিকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর বিক্ষোভকারীদের’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছর রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী কর্মীর মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা দেশটির শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদপত্রের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালান। বিক্ষোভকারীরা দুই পত্রিকার ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ভবনগুলোর ভেতরে সাংবাদিক ও অন্য কর্মীরা আটকা পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিক ও অন্য কর্মীদের উদ্ধার করা হয়। আগুন শুক্রবার ভোরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা অনলাইনে ‘বিশিষ্ট প্রতিবাদী নেতার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছর ছাত্র আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনে ভূমিকা রাখা এক তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন ‘আহত যুবনেতার মৃত্যুর পর ঢাকায় সহিংস বিক্ষোভ ও ভবনে অগ্নিসংযোগ’ শিরোনামে বেশ কয়েকটি ছবি দিয়ে অনলাইন সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাওয়া এক যুবনেতার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে আসে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে সহিংসতার প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সাম্প্রতিক সহিংসতার ঢেউ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন বার্তা সংস্থার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএন, যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান, জার্মানির ডয়চে ভেলে, ভারতের এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ফ্রান্স ২৪ ডটকমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত