চাঁদপুরের মতলব আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবির) হাসপাতালে শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে চার হাজার ৭৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ১০৭ শিশু রোগী অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে ১৯৬ শিশু। ভর্তির এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ড ডায়রিয়া রোগীর চাপ। কেউ কেউ আবার বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এসব রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৭৭৬ জন। এর মধ্যে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ১০৭ জন। বাকিদের বয়স ৫ বছরের বেশি। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে ৫ বছর বয়সী ১৯৬ শিশু। এ সংখ্যা বছরের স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণের বেশি। স্বাভাবিক সময়ে ভর্তি হয় ১০০ জন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার বরদিয়া এলাকার বাসিন্দা লাকি আক্তার বলেন, ঘন ঘন বমি ও পাতলা পায়খানা হওয়ায় তার ১৫ মাস বয়সী ছেলেশিশু জুনায়েদকে ২৯ ডিসেম্বর রাতে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। চিকিৎসকেরা সুজি, খাওয়ার স্যালাইন খেতে দিয়েছেন। তার অবস্থা একটু ভালো।
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর দাস বলেন, শূন্য থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ও নিয়ম করে পরিমিত খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে দিতে হবে। ৬ মাসের অধিক বয়সী শিশুদের খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার খেতে দিতে হবে। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের খাওয়ার স্যালাইন, প্রতিদিন একটি করে বেবিজিংক পানিতে গুলে খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ডাব, চিড়ার পানি, স্যুপ খেতে দিতে হবে। এ রোগ সারতে ৫ থেকে ৭ দিন এমনকি ১০ দিনও লাগতে পারে। শিশুদের পাতলা পায়খানা, বমি বা জ্বর হলে বাড়িতে নিয়ম মেনে খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। নেতিয়ে পড়লে বা অবস্থার অবনতি হলে বিলম্ব না করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, শিশুর পরিচর্যাকারী মাসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে ও বুকের দুধ না খাওয়ালে সাধারণত শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত শিশুদের পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমিও হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে জ্বরও হতে পারে।
