নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২৬ এএম

পোশাক খাতে কাজ করা মোট শ্রমিকের মধ্যে কমপক্ষে ২০ লাখ নারী শ্রমিক গ্রাম থেকে এসেছেন। নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট জনরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘ন্যায্য মজুরিা: অধিকার ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারা।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যায্য মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্য এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণে সভাটির আয়োজন করে পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থা। সভায় শ্রমিক, কারখানা মালিক, সরকারের প্রতিনিধিসহ, উন্নয়ন কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

পোশাক খাতে কাজ করা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ বলেন, কর্মের জন্য যে নারী শ্রমিকরা ৩০ বছরের জন্য শহরে আসেন তাদের নিরাপত্তার জন্য সরকার কি পদক্ষেপ নিয়েছে বা শহর তাদের জন্য প্রস্তুত কি না তা আমরা কখনোই ভাবিনি। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল নেই, শিশুদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ন্যায্য মজুরিও নিশ্চিত নেই। এটি শ্রম খাতের সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতা।’

তিনি বলেন, কাজে থাকাকালীন সন্তানের নিরাপত্তা না থাকায় অনেক শ্রমিকক সন্তানকে গ্রামে রেখে আসেন। আবার যে বেতন পান তা দিয়ে হয়তো খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব। পরিবারের অন্য খরচ মেটানো কঠিন। এই অবস্থায় একজন শ্রমিক থেকে উৎপাদনশীলতা কীভাবে আশা করা যায়। ফলে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে ও জীবনমান উন্নয়নে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন খুবই জরুরি।

সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, ‘শ্রম আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে বাধ্যতামূলক ভবিষ্যৎ তহবিল প্রবর্তন এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধা ১১২দিন থেকে ১২০দিন বৃদ্ধি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে এই সংস্কারগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পর্যাপ্ত মজুরি না থাকায় ভবিষ্যৎ তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সুবিধা গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন গর্ভবতী শ্রমিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, শুধু মালিক ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে পারবে না। শ্রমিকদের সরকার শিল্প এলাকায় স্বাল্পমূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করলে মুল মজুরির ওপর চাপ কমত। ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হয়। আমরা এই ন্যায্য মজুরি দিতে চাই।

সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. তাইমুম ইসলাম বলেন, ‘পরিদর্শন অধিদপ্তর টোল ফ্রি টেলিফোন নম্বর ১৬৩৫৩ চালু করেছে। এই নম্বরে শ্রমিকরা নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরিসহ যেকোনো অভিযোগ জানাতে পারবেন। এবং দ্রুত সমাধানও করছি আমরা।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী নাজমা আক্তার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার প্রমুখ।

আলোচকরা বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাত কয়েক দশক ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। এ খাত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ অংশ নিশ্চিত করে এবং তৃণমূল থেকে আসা প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এই শিল্পকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করেছে। তবুও বহু শ্রমিক অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, মজুরি অনিশ্চিয়তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি, বিচার ও সামাজিক সুরক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকারের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত