ওসমান হাদির কন্টেন্ট মুছে দিচ্ছে ফেসবুক!

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১৫ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে ওসমান হাদি সম্পর্কিত ভিডিও ও কবিতা অপসারণের ঘটনায় বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারীদের একাংশ দাবি করছেন, মেটার ইন্ডিয়া আঞ্চলিক অফিস বিশেষ ট্যাগ সংযুক্ত করে এই কন্টেন্টগুলো সরিয়ে নিচ্ছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপসারণের কারণ ভিন্ন।

সম্প্রতি ফেসবুক থেকে ওসমান হাদির একাধিক ভিডিও ও কন্টেন্ট আনএবেইলেবল হতে দেখা গেছে। হাদির তিনটি ভিডিও আপলোড করার পর পেজ হারিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকেও আপলোড করা হাদির কবিতা নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, ওসমান হাদিকে নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসগুলোর সামনে বিক্ষোভের পর ভারতে মেটার আঞ্চলিক অফিস থেকে হাদিকে ‘সন্ত্রাসী’ ট্যাগ করে ভিডিও অপসারণ শুরু হয়। তবে এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, আমাদের কাছে এ ব্যাপারে অফিসিয়াল কোনো তথ্য নেই। আমরা বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করেছি, তারা এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। হাদি সংক্রান্ত কন্টেন্ট ম্যাসিভ রিপোর্টের বিষয়টি মেটাকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অপসারণের পেছনে রয়েছে ভিন্ন কারণ। তাদের মতে, হাদির ভিডিও বা পোস্ট কপিরাইট স্ট্রাইক রিপোর্টের কারণে অপসারিত হচ্ছে। একই ছবি, ভিডিও ও লেখা বহুলবার আপলোড হওয়ায় সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী একটি কন্টেন্ট রিপোর্ট করে অন্যগুলোও অপসারণ করাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেখান, মেটা যদি হাদিকে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী ট্যাগ দিত, তাহলে কপিরাইট স্ট্রাইকের পরিবর্তে টেররিজম বা ভায়োলেন্স ক্যাটাগরিতে রিপোর্ট হতো। এছাড়া মেটা ইন্ডিয়া চাইলে শুধুমাত্র ভারতেই হাদির কন্টেন্ট ব্লক করতে পারত, যেমনটি বাংলাদেশে সাংবাদিক ইলিয়াসের পেজ কান্ট্রি ব্লক করা আছে।

এ অবস্থায় ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, ওসমান হাদির ভিডিও বা ছবি পুনরায় তৈরি করে বা সম্পাদনা করে আপলোড দিতে। একই গান ব্যবহার করলে ভিডিও পরিবর্তন করে দিলে কিংবা একই ছবি এআই বা ফটোশপ দিয়ে সম্পাদনা করলে কপিরাইট রিপোর্ট এড়ানো সম্ভব।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনো এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত