চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে হামলা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে ‘বহিরাগত ব্যক্তিরা’ অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হন। পরে ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আবদুর রহমানের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আবদুর রহমান ও তার অনুসারীরা কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন মার্কেট থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। ৬০-৭০ সদস্যের একটি গ্যাং চাঁদা নিতে কারওয়ান বাজারে নিয়মিত শোডাউন ও ব্যবসায়ীদের মারধর করে আসছে। তারই প্রতিবাদেই গতকালের মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা হয়।

মানববন্ধনে হামলার পরপরই কারওয়ান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় হামলার শিকার ব্যবসায়ীরা মামলা করবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, এখনো ব্যবসায়ীরা মামলা করেননি। মামলা করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আব্দুর রহমান, আগের সবগুলো মামলায় জামিনে রয়েছেন। নতুন করে মামলা হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামিয়া শান্তি সমিতির ব্যানারে ব্যবসায়ীরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, কিচেন মার্কেটের মাছবাজার, মাংস বাজার, মুরগি বাজার, ফলপট্টি, ফুটপাতসহ অন্যান্য মার্কেট থেকে মাসিক, সাপ্তাহিক ও দিন ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা নেন আবদুর রহমান। কিচেন মার্কেটের বাথরুমকে গুদাম বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। এ ছাড়া এই চাঁদাবাজির টাকায় ৫ আগস্টের পর কিচেন মার্কেটে দুটি দোকান কিনেছেন। ছিনিয়ে নিয়েছেন ছয়টি কোম্পানির ডিলারশিপ। যেসব ব্যবসায়ী তাকে চাঁদা দিতে অপারগতা জানান, তাদের মিথ্যা মামলার আসামি বানানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। আবদুর রহমানের চাঁদাবাজ চক্রের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে লম্বা বিল্লাল, মোটা আমিন, ফারুক গাজী ওরফে ভাগ্নে ফারুক, বরিশাইল্লা বাশার, মোহাম্মদ আলী, সাদ্দাম, কিলার আনিস, কারেন্ট জসিম, তন্ময়, রাসেলসহ ৬০-৭০ জন সদস্যের গ্যাং।

চাঁদাবাজদের হামলায় আহত চাল ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন শুরু করা হয়। এ সময় আবদুর রহমানের গ্যাংয়ের ২০-২৫ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমরা বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হই। একপর্যায়ে সব ব্যবসায়ী চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ ঘটনায় হামলাকারী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, আবদুর রহমান তেজগাঁও থানা যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন। চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এখনো চাঁদাবাজি করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে যুবদল থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘একটি গণমাধ্যম আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করায় দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। আর কারওয়ান বাজারে যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তারা আগে আওয়ামী লীগের চাঁদা তুলতেন। আমি গত বছরের ৫ আগস্টের পর উড়ে আসিনি। ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী ১৯৯৯ সাল থেকে কারওয়ান বাজারে ব্যবসা করি।’ যারা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত, তাদের চাঁদাবাজ বলে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত