প্রকৃতির নিয়মে বছর ঘুরে আবার এসেছে শীত। তবে শীত সবার জন্য সমান আনন্দ নিয়ে আসেনি। উত্তরের জনপদ থেকে শুরু করে সারা দেশে জেঁকে বসা হাড় কাঁপানো শীতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে লাখো ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় যখন জনজীবন স্থবির, তখন খোলা আকাশের নিচে কিংবা জীর্ণ কুটিরে একটু উষ্ণতার অভাবে নির্ঘুম রাত কাটছে বৃদ্ধ ও শিশুদের। প্রচণ্ড অভাবে যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের কাছে শীতের নতুন পোশাক কেনা দুঃসাধ্য ব্যাপার। মানবতার এই চরম সংকটে বিত্তবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষদের এগিয়ে আসা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। ইসলামে আর্তমানবতার সেবা ও অভাবীকে বস্ত্র দান করাকে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ মর্যাদা।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান অন্য কোনো মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করবে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের পোশাক পরাবেন। খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। পানি পান করালে তাকে জান্নাতের শরবত পান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘কোনো মুসলমান অপর মুসলমানকে কাপড় দান করলে যতক্ষণ ওই কাপড়ের টুকরো তার কাছে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দানকারী মহান আল্লাহর হেফাজতে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি) মহান আল্লাহ আমাদের সাধ্য অনুযায়ী বস্ত্রহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার
