সুদানের এল-ফাশার থেকে পালানো মানুষের ঢল, উপচে পড়ছে শরণার্থী শিবির

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২২ পিএম

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের এল-ফাশার শহর থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ভিড়ে আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলো দ্রুত পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে। উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, আল-দাব্বা শহরের কাছে একটি শিবিরের আয়তন বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ বর্গমিটারে পৌঁছেছে, যেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ।

আল জাজিরার সানাদ সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এল-ফাশারের উত্তর-পশ্চিমে কারনি শহরের কাছে গড়ে ওঠা একটি শিবির ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। একইভাবে, সুদানের উত্তরাঞ্চলে আল-দাব্বার কাছে এল-আফাদ শিবির দ্রুত সম্প্রসারিত হয়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এল-ফাশার দখল করার পর শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত এক লাখ সাত হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই অভিযানে গণহত্যা, যৌন সহিংসতা ও ব্যাপক আটক চালানো হয়েছে। এল-দাব্বা শিবিরে বিপুল সংখ্যক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শরণার্থী আসায় খাবার ও চিকিৎসার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
 
সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল এল-ফাশার পরিদর্শন করে শহরটিকে প্রায় জনশূন্য ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত বলে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সহিংসতা বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। 

২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংকটকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত