আয়ারল্যান্ড সিরিজে প্রথমে বাদ পড়ায় অধিনায়ক লিটন দাস ও প্রধান নির্বাচকের মধ্যে সরাসরি মতবিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন শামীম হোসেন। পরে অবশ্য তৃতীয় টি-টোয়েন্টির দলে জায়গা মিললেও মাঠে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ হয়নি তাঁর। এর আগে জাতীয় দলের হয়ে খেলা শেষ সাতটি টি-টোয়েন্টির মধ্যে পাঁচ ইনিংসেই শূন্য কিংবা মাত্র ১ রানে ফিরতে হয়েছিল এই অলরাউন্ডারকে।
এমন কঠিন সময় পেছনে ফেলে বিপিএলে এসে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন শামীম। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে মাত্র ১৩ বলে ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। আত্মবিশ্বাস ফেরানোর ক্ষেত্রে সেটিই ছিল বড় এক মোড়।
আজ সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে দল জিততে না পারলেও শামীমের ব্যাট থেকে এসেছে চোখধাঁধানো এক ইনিংস। ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তিনি ৪৩ বলে ৮১ রান করেন, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে পারলে ম্যাচ গড়াতে পারত সুপার ওভারে। ফল যদিও পক্ষে আসেনি, তবু এমন ইনিংসের পর প্রশংসা কুড়াতে কোনো অসুবিধা হয়নি তাঁর।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের খারাপ সময়ের কথাও টানেন শামীম। অধিনায়ক লিটন দাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লিটন ভাই আমাকে অনেক বিশ্বাস করেছেন। আগেও ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছি। একজন খেলোয়াড়ের দুই-তিনটা ম্যাচ খারাপ যেতেই পারে। আমি মনে করি, এটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই। যদি পাশে একটু ব্যাকআপ আর সাপোর্ট থাকে, তাহলে ফিরে আসাটা সহজ হয়।’
নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শামীম জানান, চাপ নিয়ে ভাবতে চান না তিনি। ‘ওরকম কিছু মাথায় রাখিনি। নিজের কাজেই মনোযোগ দিয়েছি, অনুশীলন করেছি। যেটা দরকার ছিল, সেটাই করার চেষ্টা করেছি,’ বলেন তিনি।
বিপিএলের পরপরই সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। স্কোয়াড ঘোষণার সময়ও খুব বেশি দূরে নয়। এমন এক সময়ে এই ইনিংস শামীমের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অবশ্য আপাতত ভাবছেন না তিনি। শামীমের কথায়, ‘এখন আমার ফোকাস এই টুর্নামেন্টেই। এখানে ভালো খেলতে পারলে, বিশ্বকাপে সুযোগ এলে সেটার জন্য ভালো প্রস্তুতি হয়ে যাবে।’
শামীমের 'ওয়ান ম্যান শো', এক ছক্কার জন্য পারলো না ঢাকা
ফুটবল কবে ছাড়ব আমি নিজেই ঠিক করবো: সাবিনা