ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে অন্তত পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলাকালীন এসব আটকের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএন-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আটকদের কিছু অংশ মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, মাদুরো সরকার এই মার্কিন নাগরিকদের মূলত ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর অবরোধ, মাদকবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা এবং দেশটির বন্দর স্থাপনায় সিআইএ-র ড্রোন হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন যে চাপ তৈরি করেছে, তার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আটকের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলটি রাশিয়ার মতো। ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়াও অতীতে বিভিন্ন মার্কিন নাগরিককে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’-এর কথা বলছে না, তবে তারা মাদুরোকে অবৈধ শাসক এবং ‘মাদক পাচারকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। গত ডিসেম্বরে মাদুরোর পরিবারের সদস্যদের ওপর দুই দফা নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। একই মাসে ভেনেজুয়েলার একটি বন্দর স্থাপনায় প্রথমবার সিআইএ-র মাধ্যমে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসনব্যবস্থার এই স্থিতাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয়।’ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মাদুরো নতি স্বীকার না করা পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে।
ভেনেজুয়েলার একটি রাষ্ট্রীয় চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বন্দর স্থাপনায় হামলার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক-পুলিশ বাহিনী দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও শান্তি নিশ্চিত করছে। আমাদের জনগণ নিরাপদে আছে।’
মানবাধিকার কর্মীদের তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে শত শত রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই আটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার কারাগার থেকে বেশ কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে কোনো মার্কিন নাগরিক নেই বলে নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আটকের সময় ওই নাগরিকরা ভেনেজুয়েলায় কী করছিলেন, সে সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
রাবিতে শিক্ষকের গাড়ির ধাক্কায় পা ভাঙল ছাত্রীর
নাজিরপুরে বিএনপি নেতা শাহীনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার