খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে প্রতিদিনই জিয়া উদ্যানে আসছেন অসংখ্য মানুষ। গত বুধবার দাফনের পর বৃহস্পতিবার থেকে জিয়া উদ্যানে হাজারো মানুষ এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, দেশ এক নক্ষত্রকে হারিয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য, দেশের জন্য খালেদা জিয়া আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন। এই লড়াই তাকে মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছে। তাদের কেউ প্রিয় নেত্রীর জন্য ছুটে আসছেন, কেউ কবর জিয়ারত করতে; কেউবা আসছেন একবার কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখতে। গতকাল শনিবার চতুর্থ দিনেও মানুষের ঢল ছিল জিয়া উদ্যানে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের বেইলি ব্রিজ থেকে জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার কবর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছিল মানুষের দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।
এ ছাড়াও জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দল, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমবায় দল এবং জিয়া সাংস্কৃতিক ফোরাম নামে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর বাইরে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আনা ফুলে ছেয়ে গেছে বেগম জিয়ার কবর। ঢাকার বাইরে থেকেও বিএনপির অনেক নেতা আসছেন তার অনুসারীদের নিয়ে। তারা জানান, ভালোবাসা থেকেই তারা ছুটে এসেছেন।
এদিকে শোক জানানোর জন্য গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের অফিসে ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। তারা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর নেতারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সভাপতি অঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল যান বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে। এ সময় তারা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেন।
